অন্ধকার গলিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা

মোঃ মাজহারুল পারভেজ

এক অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা। এ গলি থেকে কখন বের হবে তা আর নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সাংবাদিকতার ধরন ও রকমের এখন আর কোন সীমা পরিসীমা নেই। সে কারণে কোনটা বিশ্বাস করবে তা আর বুঝে উঠতে পারছেন না পাঠক।

এ অবস্থা তৈরি হয়েছে শুধু সাংবাদিকতাকে সনদের আওতায় না আনার জন্য। এসব নানা কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা এখন আর পরিচয় দিতেও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেননা।

আমার চোখে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা এখন হরেক রকমের। তবে এর মধ্যে কয়েক রকমের কথা না বললেই নয়। তারা হলেন, (১)দলীয় সাংবাদিক (২) ফরমায়েশি সাংবাদিক (৩) এফবি সাংবাদিক (৪) ইউটিউব সাংবাদিক (৫) স্বশিক্ষিত সাংবাদিক, (৬) চাটুকার সাংবাদিক ও (৭) তথাকথিত অনলাইন সাংবাদিক।

পেশাদার সাংবাদিকদের পিছনে ফেলে আজ দাপটের সাথে তারাই রাজত্ব কায়েম করার দ্বারপ্রান্তে।
কিছু অসাধু সরকারী কর্মকর্তা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের কাছে তাদের রয়েছে আকাশচুম্বী কদর।

বিভাগীয় শহর গুলোতে অবস্থা এখনো একটু ভালো থাকলেও মফস্বল শহর গুলেতে প্রকৃত সাংবাদিকদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

জেলা পর্যায়ে কতিপয় দুষ্ট আমলা ও রাজনীতিকরা প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত শক্তি দক্ষতা ও সামর্থ্য নষ্ট করার জন্য নানাভাবে এ সমাজে গ্রুপিং ও লবিং করে বিভিন্ন দলে উপদলে ভাগ করে রাখার চেষ্টা করে আসছে।অনেকাংশে তারা আবার সফলও হয়েছেন।

এমনকি পকেট সাংবাদিক বানিয়েও প্রকাশ্যে তারা তাদের পক্ষে নানা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন জোড়ে সুরে। এতে করে প্রকৃত অবস্থা অনেকাংশেই লোক চক্ষুর আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।সত্য সংবাদ প্রকাশ না হওয়ার শঙ্কায় মুখও খুলছেন না ভুক্তভোগীরা।

দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতায় আবার স্থানীয়ভাবে পত্র পত্রিকা, ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনলাইন টিভি চ্যানেল রয়েছে। আংশিক সত্য আর মিথ্যার মিশ্রণে তাদেরকে নিয়ে বানোয়াট নানা নিউজ এন্ড ভিউজ অবিরত চলছে ভার্চুয়ালী।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তো রয়েছেই। তথ্য অধিকার আইন থাকলেও সাংবাদিকদের তথ্য প্রদান করা হচ্ছেনা। তাই অনুসন্ধানী সংবাদ একেবারে করাই যাচ্ছেনা। এ কারণে দিন দিন দুর্নীতিও লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলছে। সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে এই তথাকথিতরা জড়িত।

দুষ্ট আমলা কামলা,রাজনৈতিক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের সাথে তাদের রয়েছে অভাবনীয় সখ্যতা। নামধারী এসব ফেসবুক লাইভারদের সাথে এমন অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কারণে সহজেই বুঝা যায় তারা আসলে প্রকৃত সাংবাদিকতাকে আর চায়না!

জাতীয়ভাবে প্রভাবশালী গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা তাদের চোখের কাটা। অপরাধীরাও থোড়াই কেয়ার করছে স্বনামধন্য সংবাদকর্মীদের।

জাতীয় পর্যায়ে যে সকল সংবাদকর্মীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন দয়া করে আপনারা ভেবে দেখুন,কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন এই মহান পেশাকে? এভাবে চলতে থাকলে হয়তো শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণরা আর এ মহান পেশায় আসবেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন মহান এ পেশার বিশ্বস্ততা, স্বচ্ছতা,সততা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে হলে কাল-বিলম্ব না করে সাংবাদিকদের সনদের আওতায় নিয়ে আসুন। তৈরি করুন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক বান্ধব একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা। তাহলে পরেই অপ-সাংবাদিকতা দুর হয়ে প্রকৃত সাংবাদিকেরা পাবে তাদের স্বীয় মর্যাদা।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক নরসিংদী প্রেস ক্লাব

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: