ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা

নিউজনাউ ডেস্ক:
ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা, নিয়মানুবর্তী জীবনযাপনের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। সাধারণত কিছু নিয়ম-কানুন মেনে রোজা রাখলে ডায়াবেটিস রোগীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখার কিছুদিন আগে চিকিৎসকের পরামর্শমতো রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা (খালিপেট/ভরাপেট), লিপিড প্রোফাইল, রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন, লিভার ফাংশন ইত্যাদি পরীক্ষা করে নেবেন। এসব পরীক্ষাগুলোর ফলাফল স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলে ডায়াবেটিস রোগীরা নির্দ্বিধায় রোজা রাখতে পারবেন।

কিছু বিশেষ সতর্কতা, নিয়ম মেনে চললে বেশির ভাগ ডায়াবেটিস রোগীই রোজা রাখতে পারেন।

ব্লাড গ্লুকোজ দেখুন:
ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে, সেহরির ২ ঘণ্টা পরে এবং শরীর খারাপ লাগলে ব্লাড গ্লুকোজ মাপুন। প্রতিদিন না মাপলেও রোজার মধ্যে সপ্তাহে দু-একদিন মাপা উচিত। গ্লুকোমিটারে স্ট্রিপ টেস্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিস মাপলে ধর্মীয়ভাবে রোজার ক্ষতি হয় না।

ইফতারে সহজপাচ্য খাবার:
ইফতারে সহজপাচ্য শর্করাজাতীয় খাবার খান, যেটা খুব সহজে হজম হয় এবং খাদ্যগুণ যেন অতিদ্রুত রক্তে মেশে। যেমন পরিমাণমতো মৌসুমি ফল, শরবত, ছোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করুন। তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন।

সেহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট:
সেহরিতে খান কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, অর্থাৎ যে খাবারগুলো ধীরে হজম হয় এবং ধীরে রক্তে মেশে। যেমন ভাত বা রুটি। এসবের সঙ্গে রাখুন প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি।

ওষুধের ডোজ সমন্বয়:
রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের সকালের ওষুধ (ইনসুলিন বা ট্যাবলেট) ইফতারের সময়, দুপুরের ওষুধ রাতে, আর রাতের ওষুধ সেহরিতে- এভাবে সমন্বয় করতে হয়। ওষুধের ডোজের পরিমাণ এবং ওষুধ নেওয়ার সময় পরিবর্তন বা সমন্বয় নিজে না করে রোজার শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যায়াম নয়:
ডায়াবেটিক রোগীদের সকাল-বিকাল হাঁটাচলার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোজার সময় তারাবির নামাজই শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। চাইলে ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

সতর্ক থাকুন:
চোখে ঘোলা দেখা, অতিরিক্ত ঘাম দেওয়া, হাত-পা কাঁপা, গলা শুকিয়ে আসা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথাব্যথা বা ভারসাম্যহীন অনুভব করলে রক্তে সুগারের পরিমাণ চেক করুন। এসময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৩.৯ মিলিমলের নিচে চলে আসে বা ১৬.৭ মিলিমলের ওপরে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলুন।

যেসব ডায়াবেটিস রোগীরা কিডনি জটিলতাতেও ভুগছেন তারা ডাল এবং ডালের তৈরি সব ধরনের খাবার পরিহার করবেন।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...