alo
ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
কবি: রাজু আহমেদ

প্রিয় বাবা

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২২, ১১:৪৮ এএম

প্রিয় বাবা
alo


বাবা কেমন আছো?
কতোদিন তোমার বকুনি খাইনা,
তোমার রাগানো চোখ দেখে 
মাথা নিচু করে ফেলতে ইচ্ছে করলেও দেখতে পাইনা,
কতো বছর হলো, তোমার সামনের চেয়ারে বসে 
একসাথে ভয়ে ভয়ে ভাত খাইনা বলো!
এখনো কি আমার নামে নালিশ আসে?
তোমার ছেলে ফাজিল বলে কি গালি দেয় কেউ?
দেয় না, তাই না বাবা।
দিলেও তুমি জানবে কেমন করে! 
জানো বাবা? 

আমি একটা মস্ত কোম্পানিতে চাকরি করি,
মাসের শেষে আমার বেতনের টাকা যায় ব্যাংকে।
আমি কার্ড দিয়ে টাকা তুলি।

কিন্তু কি জানো! ছোট বেলায় তোমার হাত থেকে টাকা নেয়া, 
তোমার জামার পকেট থেকে চুরি করার সেই মজাটা না এখন আর পাই না।
তোমার থেকে দু’টাকা নিয়ে কেনা লজেন্সের মজা 
এখনকার পাঁচশ টাকার চকলেটে নেই!
জানো বাবা?

আমার এখন এই শহরে অনেক বড় বাড়ি,
দুইটা গাড়িও আছে,
বৃষ্টির পানি থামাতে তোমাকে আর আমার বিছানার পাশে বাটি হাতে দাঁড়িয়ে 
থাকতে হবে না, নিশ্চিন্তে সারারাত ঘুমাতে পারবে তুমি।
আমার জীবন এখন অনেক রমরমা।
তবুও কেমন ফাঁকা।

তোমার সাইকেলের পেছনের সিটে বসে নানাবাড়ি যাবার সেই আনন্দ 
চার চাকার মার্সিডিজেও পাওয়া যায় না।


এতো কথার মাঝে জানা হলো না,
কেমন আছো তুমি? 
ওখানটায় কি টেলিফোন আছে?
নাম্বার দিতে পারবে কারো?
নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে কি ওখানে?
আমার খুব দামী একটা মোবাইল ফোন আছে,
মেলায় তোমার কিনে দেয়া সেই প্লাস্টিকের মোবাইলের থেকেও ভালো,
আঙুলের ছোঁয়া দিলেই হাজার রকম গান বাজতে শুরু করে,
তবুও না তোমার কিনে দেয়া খেলনা ফোনেই শান্তি পেতাম।

তোমার কবর দেখতে ভালো লাগে না আর,
যদি পারো তবে একবার এসে আমায় একটু বকুনি দিয়ে যেয়ো।

বকুনি খেয়ে মন খারাপ করে এখন বসে থাকলে, কেউ আর পছন্দের খাবার নিয়ে রাগ ভাঙায় না। 
তুমি আসবে! একবার এসো তুমি।

কাব্যগ্রন্থ: তোমার মৃত্যু দেখবো

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X