শুভ জন্মদিন রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

নিউজনাউ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এখনো অন্যরকম ‘ক্রেজ’। প্রেম, বিরহ আর তারুণ্যের সেই গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ এখনো প্রাণে-মনে অন্যরকম আন্দোলন সৃষ্টি করে। তিনি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৫৬ সালের আজকের এদিনে পিতার কর্মস্থল বরিশালের আমানতগঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিনে নিরন্তর ভালোবাসা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা।

রুদ্রর পিতা ডা. শেখ ওয়ালীউল্লাহ এবং মাতা শিরিয়া বেগম। তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রামে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রুদ্রের শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে নানাবাড়ি মিঠেখালি গ্রামে (বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত)। এখানকার পাঠশালাতেই তার পড়াশুনা শুরু।

১৯৭২ সালে ঢাকায় এসে ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুল ভর্তি হয়ে ১৯৭৪ সালে চার বিষয়ে লেটার মার্কসসহ এসএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। এর পর ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। এরপর ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ পাস করেন তিনি।

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য। জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে প্রধান উদ্যোগীদের একজন ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষ্ফোরক দিনগুলোতে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বিপ্লবের সহগামী এক মানুষ।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার স্বল্পসময়ের জীবনে রচনা করেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থসহ গল্প, কাব্যনাট্য ও অর্ধ শতাধিক গান। তারই কবিতার লাইন ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে পুরনো শকুন’ আজও অবিস্মরণীয়।

এরকম অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন রুদ্র। রাজনীতির ভন্ডামী আর সমাজের বৈশাদৃশ্যের ছবি তিনি তার কবিতায় তুলে এনেছেন নিপুন তুলির টানে। ‘সোনালি শিশির’ তার একমাত্র গল্পের বই। তার ‘বিষ বিরিক্ষির বীজ’ নামক একটি নাট্যকাব্য রয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম ১৯৮২, মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) কাব্যগ্রন্থগুলোও ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার বিখ্যাত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ১৯৯৭ সালে তাকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান করে।

রুদ্র ১৯৮১ সালে আলোচিত নারীবাদী কবি-লেখিকা তসলিমা নাসরীনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর কিছুকাল পরে ঢাকার বাসভবনে কবির অকালপ্রয়াণ ঘটে।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...