মৌমিতার ভাবনা ও দ্বিতীয় মৃত্যু!

শিপন হালদার : সকাল সকাল তাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার। অফিস যেতে হবে। বাসা থেকে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে, এরপর গণপরিবহনে। মাত্র ৩০ মিনিটের পথ। কিন্তু ১ থেকে দেড় ঘণ্টাতো লাগবেই। কী অসহ্য যানজট! এসব ভাবতে ভাবতে ভ্যানিটি ব্যাগটা হাতে নিলো মৌমিতা। বাসার মূল দরজা খুলতেই ‘বাই বাই’ বললো স্বপনকে। ‘দুপুরে লাল শাক ভাজি আর মুরগির মাংস। খেয়ে নিও’। মৌমিতার দ্বিতীয় স্বামী। দুজনের বোঝাপড়াও দারুণ। সুখের সংসার। দ্বিতীয়, তাতে কী!

পাঁচ তলার সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মাস্কটাও পরে নিলো মৌমিতা। গত এপ্রিল-মে মাসে করোনা নিয়ে কী আতঙ্ক ছিল মানুষের মধ্যে! চারিদিকে যেন মৃত্যু হাত বাড়িয়ে। সেই সময়টায় ঘর থেকে বের হয়নি মানুষ। এরমধ্যেই কারখানা খুলে দেয়া, ঈদের ছুটি! আবার রাজধানীতে ঢুকতে না দেয়া। সরকারের কত সিদ্ধান্তহীনতা দেখতে হয়েছে। ভুগতে হয়েছে। মরতে হয়েছে।

মৌমিতা ভাবছেই…। করোনা পরিস্থিতিতে কতজন চাকরি ছেড়েছে। কতজনের চাকরি গেছে। কত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার ভয়ে অনেকে শহর ছেড়ে চলে গেছে। আশ্রয় নিয়েছে গ্রামে গ্রামে। এতোকিছুর মধ্যেও যারা টিকে আছেন, তাদের সংগ্রাম চলবে, চলবে…। ভাবনা শেষ না হতেই মিরপুর-১২ বাসস্ট্যান্ডে এসে পড়েছে মৌমিতা। এখন বাসে উঠতে হবে। নামবে কাকলি।

বাসস্ট্যান্ডে করোনার ছায়া পড়েনি। কোন নিয়ম-কানুন নেই। যে যার মতো জটলা করে আছে। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। নেই কোন শৃঙ্খলা। মৃত্যুভয়হীন; বেপরোয়া মানুষগুলো! সব দেখে ভয় হচ্ছে মৌমিতার। কী যে হবে এবার! করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে সারাবিশ্বে। বাংলাদেশেও আসছে…।

ভাবনাটা শেষ না হতেই বাসটা এসে দাঁড়ালো। এবার ওঠার লড়াই। কোনরকমে ভিড় ঠেলে উঠলো ভেতরে। কিন্তু এ কী! কেউ শারীরিক দূরত্ব মানছে না। ঠাসা ভিড়। হাতেগোনা কয়েকজনের মুখে মাস্ক। অন্য যাদের আছে তাদের হাতে! এসব দেখে জড়োসড়ো মৌমিতা। ভাবতে.. প্রথমবার বেঁচে থাকলেও এবার আর রক্ষা নেই।

বাস চলছে থেমে থেমে। কালশি, মাটিকাটা.. ফ্লাইওভারের উপরে দীর্ঘ যানজট। কখন কাকলি পৌঁছাবে বাস। ভেতরে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। চারদিকে অক্সিজেন সংকট। শীতেও ঘামছে মৌমিতা। দ্বিতীয় মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে!

চলবে…

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...