এক যুগ পর

সুমিতা বিশ্বাস

এক যুগ পর-
চলতে পথে হঠাৎ হলো দেখা ।
চোখ পড়তেই দুজনে থমকে গেলাম ,
একপা দু’পা করে সম্মুখে কাছাকাছি ,
কথা নেই শুধুই চেয়ে থাকা ।

তারপর দুজনেই একসাথে বললাম –
কেমন আছো ?

কারো মুখে কথা নেই চুপচাপ ।
বুকের মধ্যে ঝড় চোখে জলোচ্ছ্বাস ,
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ছায়াছবির মতো,
আগ্নেয়গিরির ফুলকিতে ছড়ালো উত্তাপ ।

বল্লেনা ,কেমন আছো?

কাঁপা কন্ঠে ,আগের মতোই আছি ।
যেমনটি বলতে তুমি থাকতে আমায় ,
অনেকটা তেমনি আছি শুধু আপনায়,
পূরনো স্মৃতি নিয়ে নিঃসঙ্গতায় বাঁচি ।

নিঃসঙ্গতায় কেন?

সংগী হবে বলে অপেক্ষাতে রাখলে।
লগ্ন গেলো বধূবেশে তুমি এলেনা,
প্রতিবেশীর ছি! লগ্ন ভ্রষ্টা মেয়ে আমি ,
কি ক্ষতি করেছিলাম ? এমনটি পারলে?

হঠাৎ পায়ের দিকে চোখ পড়লো ,হাতে লাঠি।

বাম পা জড়িয়ে বললাম -কোথায় ডান পা ?
হাতের লাঠি পড়ে গেলো দু’জনে মাটিতে ।
লগ্ন ভ্রষ্ট করতে চাইনি আমি সেই রাতে ,
মধ্য পথে পিছন থেকে ট্রাকে দিলো চাপা।

দশদিন পর জ্ঞান ফিরলো ডান পা নাই ,
পঙ্গু আমি তোমার কাছে কেমন করে যাই ?
তোমার জীবন নষ্ট হোক পঙ্গু আমায় নিয়ে ,
একটা সময় ভুলে যাবে হবে তোমার বিয়ে ।

কিন্তু তোমার সিথী খালি কেন ?

কেমন করে ভাবলে তুমি সিথী হবে রঙ্গীন ?
তোমার অপেক্ষাতে আমি ছিলাম তুমি বিহীন ।
আজো আমি তোমার আছি সিথী রয়েছে খালি,
রাঙ্গিয়ে দাও গো খালি সিথী একটু সিঁদুর ঢালি।

আমি তো পঙ্গু –

তুমি আমি এক দেহেতে হবো একাকার ,
ভালোবাসার সেতু গড়তে পা নেই দরকার ।
হাতটি ধরো শক্ত করে আমি তোমার পা,
একসাথে বাঁচবো মরবো সামনে আসুক যা।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...