আত্মহত্যা ও আলহাজের ভালোবাসা!

শিপন হালদার: একটি ফুলের অপমৃত্যু! পরাজয় নিস্বার্থ ভালোবাসার! অকালে ঝরে গেলো অভিমানী আলহাজ! কেন এই অসময়ে চলে যাওয়া? কেনো বুকভরা এতো কষ্ট। খাঁচায় আটকে রাখা কবুতরের মতো ছটফটানি। কাউকে বোঝানো গেলো না! বন্ধুদের, স্বজনদের, এমনকি প্রিয়তমাকে!

বুকের মধ্যে গুমরে কেঁদে ওঠা ভালোবাসা কারো কথা শোনেনি। শুনতে চায়নি। শুধু নিজের সাথে কথা বলেছে! অভিমান করেছে। আবেগি করেছে। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা প্ররোচিত করেছে! নিজেকে নিজের কাছে হারিয়ে দিয়েছে। জিততে দেয়নি কোমলমনা আলহাজকে! পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই চলে গেছে না ফেরার দেশে!

কে এই আলহাজ? ভাবছেন আপনারা? এক অভিমানী যুবকের নাম আলহাজ উদ্দিন। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের দরগাবাহারপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। গতবছর সিলেট সরকারি কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে মাত্র এসএসসি পাস করেছে। কি সরল বিশ্বাসেই না মেয়েটিকে পাগলের মতো ভালোবেসেছিল! কী বিশ্বাসেই না বুক বেঁধেছিল! ভালোবাসার স্বপ্নগুলো ভর করেছিল দু’চোখে! কতোনা নির্ঘুম রাত কেটেছে আলহাজের! কে জানে…

পরাজিত মন মানেনি। ভালোবাসার কাছে হারতে জানেনি। তাইতো ফেসবুকে বলে গেছে সব কথা! না পাওয়ার বেদনা! শব্দের মালায় ভালোবেসে গেছে, কি এক মহিমায়…ইতিহাসের পাতায় লিখে গেছে নিজের নাম-আমি আলহাজ উদ্দিন। ভালোবেসে মরতেও পারি! তুমি ভালো না বাসলেও!
‌‌
“‌‍‌‌কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। তারা অনেক স্বার্থপর হয় প্রিয় মানুষটার বিষয়ে। সবকিছু দিয়ে তাকে পেতে চায়। আর আমি কোনোভাবে পাইনি। চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে। ভালোবেসো না ঠকে যাবে!”

আত্মহত্যার আগে কেন? কেন সবাইকে মনের কথাটা বলে গেলো না আলহাজ! কেন এভাবে ফেসবুকে বলতে হলো-তার ব্যর্থ ভালোবাসা ও বুকে চেপে রাখা সব কষ্টের কথা! আরে বোকা! ভালোবাসার কি কোন বয়স আছে! নেই।

বুঝলি নারে মন, কী এই দহন! ফাঁস দিয়ে কি পেলি রে, কাঁদালি বাবা-মাকে! নতুন করে স্বপ্ন দেখতি! নতুন করে কাউরে ভালোবাসতি! গোপন অভিমানের কোন মূল্য কি আছে? নাই রে।

আলহাজ, ভালোবাসা নিয়ে খুব ভালো থেকো। ওই দূর আকাশে। তারাদের দেশে!

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কাহিনিচিত্রটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...