করোনা মহামারীর বিষয়ে আগেই জানা ছিল ট্রাম্পের!

নিউজনাউ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস একেবারে ধ্বংসলীলা চালাবে, এটা আমাদের জানা ছিল না একেবারেই। কিন্তু এই কথা কেউ একজন জানতেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা মহামারী আসতে চলেছে সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই জানানো হয়েছিল। এমনটিই দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ এক অর্থনীতিবিদ এই দাবি করেছেন। যিনি হোয়াইট হাউজের হয়েও কাজও করেছেন এই ব্যক্তি।

শুক্রবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাত্‍‌কারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ টোডাস ফিলিপসন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাউন্সিল অব ইকনমিক অ্যাডভাইজারসেরর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হয়ে তিন বছর দায়িত্বে ছিলেন।

মার্কিন এই অর্থনীতিবিদের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বরে পৃথিবীর কেউই যখন করোনা নিয়ে ধারণাও করতে পারেনি, এমন সময় ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনেরই শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের একটি দল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

তিনি জানান, মহামারীর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে, ৪১ পাতার একটি রিপোর্টও হোয়াইট হাউজে জমা দিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনীতিবিদদের রিপোর্টটিকে পাত্তা দেয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও গুরুত্ব দিতে চাননি।

টোডাস ফিলিপসসে দাবি অনুযায়ী, ফ্লুয়ের মতো সংক্রমণ যে মহামারীর আকার নেবে, সেই বিপদ সম্পর্কে হোয়াইট হাউজকে তার দল অনেক আগেই সতর্ক করেছিল। কোভিড-নাইনটিন আঘাত হানার তিন মাস আগেই তারা সতর্ক করেছিলেন।

তিনি বলেন, মহামারীতে ৫ লাখ আমেরিকার নাগরিক মারা যেতে পারেন, ৪১ পাতার ওই রিপোর্ট সেই আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হয়েছিল। তারা জানিয়েছিলেন, এই মহামারীর ধাক্কায় আমেরিকার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩.৭৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত জুনে টোডাস ফিলিপসন তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে, শিক্ষকতার পেশায় ফিরে গিয়েছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। পদত্যাগের পর তিনি নিজেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এখন সুস্থ আছেন।

‘Mitigating the impact of pandemic influenza through vaccine innovation’ শীর্ষক ওই রিপোর্টটির তিনি ছিলেন সহ-লেখক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অর্থনীতিবিদের এই দাবি কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে টোডাস যখন রিপোর্টটি হোয়াইট হাউজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করেন, তখন চীনের উহানে মাত্র কয়েকজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর তিন মাস পরে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চীন নিজে এই সংক্রমণের কথা বিশ্বের সামনে নিয়ে আসে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিসেম্বরের শেষদিকে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে।

শীর্ষ এই অর্থনীতিবিদ জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একা নন, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই রিপোর্ট সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...