পিকে হালদার ফেরেননি, টাকা কি ফিরবে?

মাসুদ রানা: অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রবিবার দেশে ফেরার কথা ছিলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে বর্তমানে তিনি কানাডায় আছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও করোনার উপসর্গের দোহাই দিয়ে দেশে ফেরেননি তিনি। তবে কবে দেশে ফিরবেন সেটাও জানাননি চিঠিতে।

আদালতের নির্দেশনা ভঙ্গ করে তার সুবিধামতো সময়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন বলে চিঠিতে জানান তিনি। বিষয়টিকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, ‘তার চিঠি এবং ভাষা ঔদ্ধত্বপূর্ণ। তিনি আদালত অবমাননা করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনবো।’

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, টাকার জোরেই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পিকে হালদার। কিন্তু আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে সেই সুবিধা দেননি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পিকে হালদারের পক্ষে আদালতে আবেদন করে বলা হয়, দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে তিনি বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে চান।

আদালত তার আবেদন আমলে নিয়ে দেশে আসার নির্দেশ দেন। তবে আত্মসমর্পণ নয় তাকে বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপরই দেশে আসার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যান পিকে হালদার।

বুধবার তার আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন, ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টায় অ্যামিরেটস এয়ালাইন্স-এর একটি বিমানে ঢাকায় আসবেন পিকে হালদার। কিন্তু তিনি সেদিন আসেননি।

মোট তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচার করে কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে কোম্পানি আইনে হয়েছে একাধিক মামলা। মামলা রয়েছে দুদকেও। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তার ২৭৫ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক। আরো কিছু সম্পদ জব্দ করা হলেও তার অর্থিক মূল্য এখনো নির্ণয় করা হয়নি।

তিনি না আসলেও, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রশ্ন—পাচার হওয়া টাকা ফিরে আসবে তো! সাম্প্রতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১২-১৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফেরত এনেছিলো দুদক। ওয়ান ইলেভেনের সময় ট্রুথ কমিশন গঠন করে ৩৪ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছিলো। ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরো এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করে দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্স। এসব ঘটনায় আশা রাখতেই পারেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম জানান, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স আইন ২০১২ অনুযায়ী, বিশ্বের ১৩২টি দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়। পিকে হালদারের টাকাও ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পিকে হালদারকে দেশে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান খুরশিদ আলম।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদের দাবি, সারাবিশ্বেই মানিলন্ডারিংকে এখন গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দুদক উদ্যোগ নিলে পিকে হালদারের পাচার করা টাকা এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...