টিভি সাংবাদিকতা, বৈশ্বিক ইভেন্ট ও আমাদের বাস্তবতা

ড. মিঠুন মোস্তাফিজ:দেশের টেলিভিশন রিপোর্টাররা যখন বিদেশে যায় তখন আত্মা দিয়ে কাজ করে। শখের ক্যামেরা দিয়ে পেশাদার কাজ করার নজির বোধ হয় বাংলাদেশি টিভি সাংবাদিকরাই গড়েন।

তা করেন, তিন কারণে- প্রথমত: তিনি জানেন, তিনি বাংলাদেশি, পেশাগত অনেক সীমাবদ্ধতা আছে; তাকে তা অতিক্রম করতে হবে। দ্বিতীয়ত: আত্ম- প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তৃতীয়ত: পেশার প্রতি শর্তহীন ভালবাসা এবং অঙ্গীকার থেকে।

সাংবাদিকের এই তিন কম্প্রোমাইজের ভেতর দিয়ে কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় টিভিগুলোই। কেননা, রিপোর্টার নিজেই চিত্রগ্রাহকের কাজ করার ফলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটি একজন ক্যামেরাম্যানের এয়ার টিকেট, হোটেল ভাড়া, খাবার খরচ, স্থানীয় পরিবহন ব্যয়, হাত- খরচ ইত্যাদি থেকে বেঁচে যায়। এভাবে বিনা খরচে একের পর এক, দিনের পর দিন প্রডাকশন পায়।

এতো দরদ দিয়ে যে দেশের মিডিয়াকর্মীরা বুকে- পিঠে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলার পদচিহ্ন এঁকে আসেন, সেই দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের দুর্দশায় পতিত হবার কথা নয়। এজন্য মানসিকতা বদলানো যেমন জরুরী, তেমনি সরকারেরও একটি সচেতন, প্রগতিশীল দেশ গড়তে এই জ্ঞান ভিত্তিক পেশার সুরক্ষায় সুনজর দেয়া উচিৎ। লোকতন্ত্রে গণমাধ্যমের সুফলভোগী কিন্তু সবাই।

লেখক: ভিজিটিং প্রফেসর, নোবেল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি- ইউএসএ;
ভাইস-প্রেসিডেন্ট, আইসিএসডি, অস্ট্রেলিয়া;
সদস্য, ইউএনজেআইজিও, ইউএসএ

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...