আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতিকে অব্যাহতি

আশুলিয়া প্রতিনিধি:

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়। আর সাংবাদিক নেতা হলে তো আর কথাই নেই, দায়িত্ব বেড়ে যায় শতগুণে কিন্তু আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতির ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে কোন কর্মসূচি গ্রহণ না করা, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোন কর্মসূচি গ্রহণ না করা, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ। তাই আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল্লাহ মুন্সীকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রাজু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ১৮ মার্চ প্রেসক্লাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য (৫০ জনের মধ্যে ৩৭ জন) সাধারণ সভায় রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে এই অনাস্থা জ্ঞাপন করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৮ মার্চ স্বল্প সময়ের মধ্যে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভার সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক। এসময় অসুস্থ্যতার কারণে সাধারণ সম্পাদকের এক চিঠি মারফত দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রাজু।

পরে সভায় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল্লাহ মুন্সীর বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে কোন কর্মসূচি গ্রহণ না করা, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন না করা, সাধারণ সভা আহ্বান না করা, নির্বাহী পরিষদ সভায় স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ আয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা, নির্বাহী পর্ষদের নির্বাচিত নেতাদের বহিরাগতদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, প্রেসক্লাবের কর্মচারীকে মারধর করে বের করে দেয়া, প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোয় সহযোগিতা করা, প্রেসক্লাব চত্তরের বৃক্ষ নিধন, সদস্যদের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্নকরণ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা, অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় পরিবহন ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বিতাড়িত করাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রেসক্লাবের নামে-বেনামে চাঁদবাজির অভিযোগ তোলেন সাধারণ সদস্যরা।

পরবর্তীতে আলোচনা পর্যালোচনার পর অধিকাংশ বিষয় সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সাধারণ সভার সভাপতি ওমর ফারুক, শহীদুল্লাহ মুন্সীকে অপসারণ ও তার প্রতি অনাস্থা আনতে সাধারণ সদস্যদের ভোট প্রয়োগে সুপারিশ করেন। এসময় মোট ৫০ জন সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ৩৭ জন সদস্য অনাস্থা কার্যকর করতে সম্মতি দিয়ে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করেন। সেই সাথে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারক কে ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

সাংবাদিক নেতাদের এমন নৈতিক স্খলন নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। ভবিষ্যতে ক্লাবটির নেতা নির্বাচনে আরো বেশি দায়িত্বশিল ও সচেষ্ট হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হবে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সাধারণ সদস্য সহ ক্লাবটির সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ