মার্কিনীদের উদ্দেশে কমলার যত কথা

নিউজনাউ ডেস্ক: জো বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে জোড়া রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মহিলার পাশাপাশি হতে চলেছেন প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্টও। কমলা হ্যারিস অবশ্য মনে করেন, তাঁর এই জয়েই আমেরিকার মহিলাদের রাজনৈতিক সাফল্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে জন্ম নেয়া কমলা হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাস্টিংস আইন কলেজ থেকে আইনে স্নাতক করেন। এরপর আইনজীবী হিসেবে শুরু করেন পেশাগত ক্যারিয়ার। কমলার বাবা জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ডোনাল্ড হ্যারিস মা ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্যামলা গোপালান হ্যারিস।

এরপর ২০১০ এবং ২০১৪ সালে দু’দফা ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি হিসেবে নির্বাচিত হন কমলা হ্যারিস। তারপর ২০১৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রথমবার সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হয়ে যান সিনেটর। ইতিহাসের দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে এবং প্রথম দক্ষিণ এশিয়-আমেরিকান হিসেবে ২০১৭ সালে সিনেটর হিসেবে নিজে দায়িত্ব শুরু করেন কমলা হ্যারিস।

শনিবার সকালের দিকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফলাফল ঘোষিত হয়। ২০ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের এই ফলাফল ডেমোক্রেটদের পক্ষে গেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিসের জয় নিশ্চিত হয়।

ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট এই নেত্রী বলেন, হতে পারে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আমিই প্রথম মহিলা। কিন্তু আমিই শেষ নই। নির্বাচনে তাঁর এবং বাইডেনের জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বর্ণনা করে কমলার মন্তব্য, ‘আজ রাতে প্রতিটি ছোট্ট মেয়ে দেখতে পাচ্ছে, এটি (আমেরিকা) একটি সম্ভাবনাময় দেশ। তাঁর দাবি, এক শতক আগে আমেরিকার মহিলাদের ভোটাধিকার প্রাপ্তির মাধ্যমে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল, তা এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে না।

মার্কিন নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন কমলার সঙ্গে তাঁর নাতনির কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল নেট দুনিয়ায়। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ছোট্ট নাতনিকে কমলা বলেন, তোমার যখন ৩৫ বছর বয়স হবে, তুমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের যোগ্য হয়ে উঠবে।

বক্তৃতায় তাঁর মা প্রয়াত গোপালন শ্যামলাকে স্মরণ করে কমলা বলেন, সম্ভবত এমন মুহূর্তের কথা তিনি কল্পনাও করেননি। প্রসঙ্গত, তামিলনাডুর বাসিন্দা শ্যামলা মাত্র ১৯ বছর বয়সে আমেরিকায় চলে গিয়েছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিসেবে আমেরিকায় পরিচিতি ছিল তাঁর। ২০০৯ সালে শ্যামলা মারা যান।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন তাঁর প্রচারে আমেরিকা থেকে ‘নিয়মতান্ত্রিক বর্ণবৈষম্যের শিকড়’ উপড়ে ফেলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পালন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন কমলা। সেই সঙ্গে বাইডেনকে বর্তমান আমেরিকার সেরা নেতা বলে বর্ণনা করে জনতার উদ্দেশে কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আপনারা এমন একজনকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন’ যিনি আমাদের মধ্যে সেরা।

এছাড়া তিনি সবসময় আমেরিকার মানুষের কাছে বেড়ে উঠেছেন একজন গর্বিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে। এক নির্বাচনী প্রচারে কমলা বাইডেন কে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন। আপনি জানেন? ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট একটি মেয়ে যে পাবলিক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ছিলো। যাকে প্রতিদিন বাসে করে স্কুলে যেতে হতো। সেই ছোট্ট মেয়েটি ছিলাম আমি। আজ আমি মার্কিনিদের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি এটা অসাধারণ হলেও একজন আমেরিকার শিশুর জন্য ছিলো সাধারণ ব্যাপার। ক্যালিফোর্নিয়া নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেন, আমি পারফেক্ট কেউ নই। বিধাতা জানে আমরা কেউই আসলে পারফেক্ট নই। তাই আমার যেই যোগ্যতা আছে আপনাদেরও সেই যোগ্যতা আছে। কমলার এমন কথায় অ্যামেরিকার মানুষ মুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবেসে ফেলে। তাই আজ তিনি মার্কিন ইতাহাসে সর্ব প্রথম নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট।

নিউজনাউ/এমএএম/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...