গাধা-হাতি নয়, মার্কিন মুলুকে করোনার জয়

নাজমুল হাসান সাগর: করোনায় বদলে গেছে সারা বিশ্ব। আর এই করোনায় বদলে যাওয়ার পথে মার্কিন মুলুকের প্রায় তিন দশকের নির্বাচনের ইতিহাস। ১৯৯২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পরাজিত হননি কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট। তবে, এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট গণনার ফলাফলে অনেকটাই স্পষ্ট—হোয়াইট হাউসের মায়া ত্যাগ করতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও জয়ের সূচক জো বাইডেনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

গত নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পরেই নানা ধরনের নেতিবাচক কার্যকলাপ ও মন্তব্যে খবরের শিরোনাম হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ কর্মগুণে উপাধিও পেয়েছিলেন ‘উন্মাদ’। প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে, প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনে জয়লাভ। তারপর পুরো এক মেয়াদ প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকাকালীন ট্রাম্প পৌঁছেছিলেন উন্মাদনার চরম শিখরে। এতটাই উন্মাদ ছিলেন তিনি যে, করোনার মতো মহামারি পরিস্থিতে তাকে গোঁ ধরে থাকতে দেখা গেছে। করোনাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন চাইনিজ ভাইরাস। বিশ্ব মিডিয়ার সামনে ঘোষণা দিয়েছিলেন করোনা সুরক্ষায় তিনি মাস্ক ব্যবহার করবেন না।

প্রেসিডেন্টের এমন উদাসীনতায় গা ভাসিয়েছিলো পুরো মার্কিন মুলুক ও তার সমর্থকেরা। ফলে যা হবার তা-ই হলো। সারা বিশ্বে এখন করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত, প্রাণহানি ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় নাম লেখালো যুক্তরাষ্ট্র। চাকরিহারা হয়ে অনিশ্চিত জীবন যাপন করতে থাকলো দেশের কর্মক্ষম জনগণের অধিকাংশই।

অবশেষে নির্বাচনের দিন কয়েক আগে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হলেন ‘ডোন্ট কেয়ার’ ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনেকেই ধারণা করেন করোনা আক্রান্ত অবস্থাতেই নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন তিনি। করোনা পজিটিভ অবস্থাতেই আবার বের হয়ে গেলেন হাসপাতাল থেকে, সমর্থকদের সাথে কুশল বিনিময়ের জন্য। সুস্থও হলেন খুব দ্রুতই। হাতির পিঠে করে গাধার সাথে লড়তে ফের যোগ দিলেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

প্রচার প্রচারণা শেষ হলো, নির্বাচনের দিন এলো। ভোটের দিনে ডোন্ট কেয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে কেয়ারফুলি ভাবলো সে দেশের ভোটাররা। হাতি-গাধার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে উন্মাদ হাতিকে ধরাশায়ী করার পথে শান্ত চিত্তের গাধা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২৬৪ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ ইলেকটোরাল ভোট। পঞ্চাশটি ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে বাইডেন। কিন্তু চূড়ান্ত জয়ের জন্য বাইডেনের দরকার আর মাত্র ৬টি ইলেক্টোরাল ভোট। নেভাডা অঙ্গরাজ্যই নির্ধারণ করে দিতে পারে নির্বাচনের ফল। সেখানে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন বাইডেনই এবং সেখানকার ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা বাইডেনের দরকারি ছয়টি-ই।

এদিকে, ট্রাম্পের জয়ের জন্য একটিমাত্র পথই খোলা। অমিমাংসিত ৫টি অঙ্গরাজ্যের ফলের মধ্যে জর্জিয়া, পেনসিলভেনিয়া,নর্থ ক্যারোলাইনা ও নেভাডার ভোটে তাকে জিততেই হবে। বাকি থাকা আলাস্কার ৩টি ইলেক্টোরাল ভোট খুব বেশি প্রভাবিত করবে না নির্বাচনের ফলাফলে। এই চারটি রাজ্যে যদি ট্রাম্পের জয় হয় তাহলে আরেক মেয়াদের জন্য হোয়াইট হাউসের রাজত্ব থাকবে তার হাতে। হেরে গেলে মার্কিন মুলুক থেকে ঐতিহাসিক বিদায় হবে ‘ক্ষেপাটে’ ট্রাম্পের। তবে কি, গাধা-হাতি নয়, মার্কিন মুলুকে এবার করোনার জয়?

উল্লেখ্য, ভোটের পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের নতুন রেকর্ড দেখলো বিশ্ব। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্তের তালিকায় নাম লিখিয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। এক্ষেত্রেই জয় করোনার-ই!

নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...