এবার মার্কিন মুলুকে এস কে সিনহার তৎপরতা!

বিশেষ প্রতিনিধি : সবখানে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে নানা সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল মানতে নারাজ। ছাড়তে চান না হোয়াইট হাউজ। অন্যদিকে, অভাবনীয় জয় পেয়েছেন জো বাইডেন। ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। সরকার গঠনের কাজও শুরু করে দিয়েছেন বাইডেন। দেশের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আলোচিত কমলা হ্যারিস। এই যখন অবস্থা, তখন জোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার। জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হবার পর ডেলওয়্যারে ছুটে গেছেন তিনি। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেননি এস কে সিনহা। তবে তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই কমলা হ্যারিসের সাথে বৈঠক করছেন! কী হবে আলোচনার বিষয়বস্তু? হঠাৎ করে আবারো কেন এস কে সিনহার তৎপরতা! কী তাঁর উদ্দেশ্য? নতুন কোন ষড়যন্ত্র নয়তো! এমন আশংকার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, এস কে সিনহা আগেও কমলা হ্যারিসের সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। কমলা হ্যারিস তখন অ্যাটর্নি ছিলেন। ২০১৮ সালে সিনেটর হবার পরও কমলার সাথে দেখা করেছিলেন সিনহা। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই, আবারো নাকি দেখা হতে যাচ্ছে তাদের। এই দেখা করার উদ্দেশ্য নিয়েও গণমাধ্যমে নানা কাহিনী তৈরি হয়েছে! তিনি নাকি বিএনপির এজেন্ট হয়ে সেখানে এই তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমন খবরও ভাসছে বাতাসে!

যুক্তরাষ্ট্রের রীতি হলো নতুন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেই তাকে বিভিন্ন দেশ তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এসময় নিজেদের পরামর্শকদের সঙ্গে যেমন কথা বলেন তেমনি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তাই বিএনপির হয়ে নাকি লবিং করছেন এস কে সিনহা! যুক্তরাষ্ট্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা দাবি করেছেন, এস কে সিনহা নাকি কমলা হ্যারিসের খুব ঘনিষ্ঠ! বাংলাদেশ পরিস্থিতি তুলে ধরবেন বৈঠকে। আর এই দায়িত্ব সিনহাকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। এজন্য যাবতীয় খরচও নাকি বহন করছে তারা।

গণমাধ্যমের তথ্য, বিএনপি এবং জামাতপন্থীরা নাকি মনে করছে, শুরুতেই বাইডেন প্রশাসনকে যদি বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্রিফ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের ব্যাপারে নজর দেবে। সিরিয়াসলি দেখবে ইস্যুগুলোকে! বিচারপতি সিনহাও নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, যেহেতু কমলা হ্যারিস ভারতীয় বংশোদ্ভুত এবং আইনজীবী তাই তিনি (সিনহা) আলাদা গুরুত্ব পাবেন। প্রথমেই আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেয়াই নাকি সিনহার মিশন!

নতুন সরকার গঠনের শুরু থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। যদিও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এরকম কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে আশা করা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বসে নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা আমরা দেখতে পাবো। নিউজনাউ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি যদিও এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি জানান, এস কে সিনহা বিএনপির এজেন্ট হয়ে কমলা হ্যারিসের সাথে দেখা করবেন। নেতিবাচক বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন। এটা প্রবাসীদের অনেকে বিশ্বাস করছেন না! আসল ঘটনা যাইহোক, তা জানাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...