“We can’t breathe”

মুস্তাফিজুর রহমান:

উত্তেজনা আর নতুন এক নিদারুণ শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল আমেরিকা। “We can’t breathe” আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। রাষ্ট্র, আমার শ্বাসনালী থেকে তোমার চাপ সরিয়ে আমাকে মুক্ত করো। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি বহিরাগত নই। বন্ধ কর তোমার ওই শাসনযন্ত্রের যাঁতাকল। আমার ওপর চেপে থাকা তোমার হাঁটু সরাও। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি মরে যাচ্ছি !

আমরা যারা নিজ শ্রমশক্তি বিক্রয় করে জীবনধারণ করি এবং আমরাই তারা যারা বুর্জোয়াদের দ্বারা প্রতিনিয়তই শোষিত হই। উৎপাদন ব্যবস্থায় যাদের কোন মালিকানা থাকে না এবং শ্রমশক্তি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মজুরির আয়ে যাদের জীবন চলে তারাই আমরা (আমজনতা)। এমনিতেই ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প পৃথিবীকে মাঝে মাঝেই ঝাঁকুনি দিচ্ছে, এর মধ্যে আবার করোনার বিশাল থাবা পুরো পৃথিবীকে আক্রান্ত করে রেখেছে। এ সকল বৈপরীত্যে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্তও হই আমরাই।

শুধু আমেরিকা কেন আমরা যারা পৃথিবীর অন্য দেশের সাধারণ মানুষ, তারাও কি পারছি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে, পারছি কি খোলা আকাশে চোখ মেলে তাকাতে, গলা ছেড়ে গান গাইতে, কথা বলতে, প্রতিবাদ করতে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় রাজনীতিবিদদের মধ্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ভীষণ অভাব বিদ্যমান। তাছাড়াও কাজের চেয়ে বেশি কথা বলার প্রবণতাও ভীষণভাবে লক্ষণীয়। অতিরিক্ত কথা বললে ভুলও যেমন হয় তেমনি ব্যক্তিগত অপবিত্র চরিত্রও ফাঁস হয়ে যায়। আর আমরা জনগন, মানে আম জনতা উল্লসিত হয়ে হাত তালি দিয়ে সেই অপবিত্র চরিত্রকে পুণ্যবান করে তুলি, অতঃপর নিগৃহীত হই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আমরাই (আমজনতা) কিন্তু বিভিন্ন রাজনীতির দোকানে দেদারসে বিনা পয়সায় বিক্রি হচ্ছি। একজন শরীরকে পুঁজি করে জীবিকা নির্বাহ করলে তাকে আমরা চরিত্রহীন বলে এই সমাজ সংসার থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করি। অথচ যে রাজনীতির তকমা লাগিয়ে, দেশাত্ববোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে, জনগণকে শোষণ করে, ব্যক্তিগত কামনা বাসনা চরিতার্থ করে, আমরা তাকেই সেলিব্রেটি বানাই, মঞ্চে ওঠাই, নেতা বানাই এবং তাকেই তোষামোদ করে নিজ নিজ চরিত্র বলি দিয়ে বিলীন হয়ে যাই, নিজেরাই চরিত্রহীন হয়ে যাই।

জানিনা আমরা কবে দেখতে পাবো নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দ্বায়িত্ব সরকার নেবে। স্বাধীন, সামাজিকভাবে সচেতন শ্রমজীবী মানুষের উঁচু মাত্রায় সুসংগঠিত সমাজ, তাতে কায়েম হবে সকলের স্বশাসন। সেই সমাজে সমাজের কল্যাণের জন্য শ্রম হয়ে উঠবে প্রত্যেকের মুখ্য অপরিহার্য প্রয়োজন এবং এই প্রয়োজন উপলব্ধি করবে প্রত্যেকেই। প্রত্যেকের সামর্থ নিয়োজিত হবে সর্বসাধারণের সর্বাধিক কল্যাণের জন্য সমাজের প্রশাসনে অংশগ্রহণের অধিকার; শিক্ষা, বিশ্রাম, বিনোদন ও ছুটির অধিকার; বৈষয়িক ও সাংস্কৃতিক উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে সৃজনশীল কাজের সুযোগ সুবিধা, সাংস্কৃতিক সকল ফলভোগের সুযোগসহ বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় সক্রিয় অবদান।

কবে তৈরি হবে শ্রেণি বৈষম্যহীন একটা পূর্ণাঙ্গ মতাদর্শ এবং একই সময়ে একটা নতুন সমাজ ব্যবস্থাও। এমন একটি মতাদর্শের ব্যবস্থা যা মানব ইতিহাসে হবে সবচেয়ে বেশি সম্পূর্ণ, প্রগতিশীল ও যুক্তিসংগত। সমস্ত শ্রেণীর উচ্ছেদ, একটি শ্রেণীহীন সমাজ।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...