স্বাস্থ্যবিধি ভুলে গেছি আমরা

মো. জিয়াউল হক: আদাবর থেকে গুলশান আমার গন্তব্য। এ পথে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয় আমাকে। প্রতিদিনকার মতো আজও উঠে জানালার পাশে একটা সিটে বসলাম। কিছু সময় পর একজন সহযাত্রী আমার পাশে বসলেন। মুখে মাস্ক নেই ভদ্রলোকের। জানতে চাইলে বললেন, ভাই আমি একটা মার্কেটিং কোম্পানীতে চাকরী করি। সারাদিন অর্ডার কালেকশন করা আর সময়মতো মালামাল ডেলিভারি নিশ্চিত করার জন্য সারাদিনই রাস্তায় থাকতে হয় আমাকে। বসদের মত এসি রুমে বসে কাজ করার সুয়োগ নেই আমার। তাই সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকাটা হয়ে ওঠে না। মাঝে মাঝে অস্বস্তিও লাগে।

করোনার শুরুর থেকে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়া বন্ধ রেখেছিলাম। ইদানিং শুধু শুক্রবারের জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যাই। একটা বিষয় বেশ নজরে আসছে, তা হলো প্রতি সপ্তাহে মাস্ক পরা মুসল্লির সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমছে। গত শুক্রবারে দেখলাম প্রতি কাতারে চল্লিশ জন মুসল্লির মধ্যে হাতে গোনা ৪/৫ জন মাস্ক পরেছেন। আর সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই এখানে। সবাই বসেছেন গায়ে গা লাগিয়ে। লকডাউনের সময় আমাদের পাড়ার মসজিদে একটা ডিজইনফেকশন টানেল স্থাপন করা হয়েছিল, সেই সাথে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। মুসল্লিরা নিজ উদ্যোগেই স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চলতো, হাত ধুয়ে টানেলের ভিতর দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতো। এখন হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও নেই আর ডিজইনফেকশন টানেলটিও অকোজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

একই অবস্থা সবখানে। কোথাও কোন স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটির মাধ্যমে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছিল, যা একটানা ৩০ মে পর্যন্ত চলেছিল। পবর্তীতে সরকার দেশে অর্থনীতি এবং মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে দেয়। ১ জুন থেকে সীমিত আকারে গণপরিবহনের চলাচল শুরু হয়। নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের কথা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তা আর মানা হয়নি। ১ সেপ্টেম্বর হতে এ বিধি নিষেধ একবারেই তুলে দেয়া হয়। যাত্রী পরিবহনে আগের অবস্থায় ফিরে আসে গণপরিবহন।

রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, দোকান-পাঠ, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল কোথাও স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। সবাই যেন উদাসীন। এখনও প্রতিদিন গড়ে ২৫/৩০ জন মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করছেন। সরকারের কোন প্রচার প্রচারণাই কাজে আসছেনা। সরকার যতই সাবধান থাকার কথা বলছে মানুষ ততই তা অবজ্ঞা করছে। বিয়েশাদিসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠান চলছে সমান তালে। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ধাপের প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। অনেক দেশ পুনরায় লকডাউনের ঘোষণা দিচ্ছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বারবার বলছেন শীত শুরু হলে আমাদের দেশেও করোনার প্রভাব বাড়তে পারে। তিনি সবাইকে এখন থেকেই সাবধান হতে বলছেন।

কোভিড-১৯ এর কারণে এখন পর্যন্ত দেশে ৫,৫৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। সচেতন না হলে এ অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই সরকারের সাথে সাথে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিধিদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এ কাজে যুক্ত করতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে এ মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

লেখক: ব্যবস্থাপক, মানব সম্পদ বিভাগ, নেক্সাস টেলিভিশন।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...