করোনা প্রতিরোধে কোরিয়ার কৌশল এবং সফলতা

0 426

ডেভিড ইকরাম:

করোনাভাইরাস চীনের পরেই আঘাত হানে দক্ষিণ কোরিয়ার তেগু শহরে, আর সেটি  গির্জা থেকে একজনের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে। পরে আস্তে আস্তে ছড়াতে থাকে বিভিন্ন শহরে। তাই কোরিয়া সরকার শুধু মাত্র সব উপশানালয় বন্ধ করে দেন এবং অনুরোধ করেন, দশ জনের বেশী একত্রিত না হওয়ার জন্য।

প্রথম অবস্থায় প্রত্যেক বাসের মধ্যে মাস্ক ও এন্টি ভাইরাস জেল রেখে দেয়া হতো। কারো মাস্ক না থাকলে যেনো নিয়ে পড়তে পোরে এবং বাসে উঠা এবং নামার সময় হাতে এন্টি ভাইরাস জেল লাগাতে পারে। আর এই মাস্কই করোনা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার বলে মনে করা হয়। কেননা, মুখ থেকে জীবাণু বেরিয়ে অন্যের মুখে দিয়ে আক্রান্ত করে, যেহেতু সবার স্বাস্থ্য সম্মত মাস্ক পরা থাকে তাই করোনা রোগী পাশে থাকলেও তার মাস্ক পরা অবস্থায় ভাইরাসটি অন্যের দিকে যাচ্ছে না আর সবাই তো একটু দুরত্ব বজায় রেখে চলছেই।

আর মাস্কের যেন কমতি না হয় ,সেজন্য সরকার প্রত্যেক ফার্মাসিকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রত্যেকের আইডি কার্ড রেজেস্ট্রি করে সপ্তাহে দুটো মাস্ক দেওয়ার জন্য এবং এই মাস্কে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। আজ পর্যন্ত কোরিয়ার কোথাও লক ডাউন করা হয়নি। কোরিয়ায় সরকারের উদ্যোগ শতভাগ জনগণ পালন করে বিধায় করোনা থেকে মুক্ত হওয়া অনেকটাই সহজ হচ্ছে ।

যখন একজন করোনা ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হচ্ছে সাথে সাথেই এই রোগী বিগত পনের দিন কার কার সহিত দেখা করেছে এবং কোনো রেস্টুরেন্টে গেলে ঐ রেস্টুরেন্টে ঐ সময় বা পরে যারা গিয়েছে সবাইকে এবং তারা যাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে তাদের সবাইকে সনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিগত চৌদ্দ দিন কোন কোন স্থানে ঘুরেছে ঐ সিটির সবার মোবাইলে মেসেজ চলে আসে, এই এলাকায় করোনা রোগী এই তারিখে এই সময়ে ঘুরেছে আপনারা সতর্ক থাকবেন এবং কারো কোনো ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সরাসরি পরীক্ষা করাবেন। মোটামুটি আক্রান্ত কেউ হলে তিন ধাপ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কোরিয়ায় দ্বিতীয় ধাপে আবার আক্রান্ত হয়। একুশ বছরের এক ছেলে করোনায় আক্রান্ত ছিলো, কিন্তু তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সে এক রাতে পাঁচ নাইটক্লাবে যায়। দুদিন পরে ঐ ছেলের করোনা ধরা পড়লে সব নাইটক্লাব বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ওইসব নাইটক্লাবে প্রায় তিন হাজার জন কাস্টমার ছিলো। প্রথম পর্যায়ে পনেরোশো জনকে চিহ্নিত করে তাদের এবং তারা যাদের সংস্পর্শে গিয়েছিলো সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয় । পরবর্তীতে বাকি পনেরোশো জনকে চিহ্নিত করে তাদেরকে ও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

বর্তমানে কোরিয়ায় আবারো নিয়ন্ত্রণে  এসেছে  এই ভাইরাস । এখানে কোনো মার্কেটে গেলে প্রায় দু মিটার দুরত্ব রেখে প্রত্যেকে চলাচল করে। আর হাতের মাধ্যমেই  যেহেতু এটা বেশি ছড়ায়, তাই বাহিরে যে কোনো কিছু ধরলে সাথে সাথেই হাত জীবাণু মুক্ত করার জন্য স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়। এজন্য কোরিয়ায় প্রত্যেক দোকানে প্রত্যেক স্থানে- এমনকি লিফটের ভিতরেও জীবাণু মুক্ত স্যানেটারাইজ রাখা আছে।

কোরিয়ার মতো এভাবে আমাদের বাংলাদেশে সম্ভব নয়, তাই প্রত্যেকের মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। প্রসাশনের এ দুটোর উপরেই গভীর নজরদারি ও শক্ত অবস্থানে যাওয়া উচিত মনে হয়।

লখক: দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...