এক কোটি প্রবাসী ও বাংলাদেশ দূতাবাস

কাজী শামীম, কাতার সাংবাদিক:

করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) এ আক্রান্ত আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। বিশ্বের এসকল প্রায় প্রতিটা দেশেই ছড়িয়ে আছে সবুজ রং এর পাসপোর্টধারী প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশী। একজন সাধারণ প্রবাসী শ্রমিক, দেশে থাকা তার তিন থেকে ছয়জন সদস্যের একটি পরিবারের দায়িত্ব বহন করেন। অন্যদিকে কিছু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী তারা সপরিবারে প্রবাসে অবস্থান করেন।
সাধারণ একজন প্রবাসী মাসে গড়ে প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা থেকে পয়ত্রিশ হাজার টাকা আয় করেন। এই আয় থেকে নিজের জন্য সামান্য কিছু হাত খরচ রেখে বাকি টাকা নিজ পরিবারের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন তারা। সাধারণ প্রবাসীরা কোম্পানি থেকে বেতন পেয়ে থাকেন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে পরবর্তী মাসের পাঁচ তারিখের মধ্যে। তাই মাসের শুরুতে অর্থনৈতিক ভাবে একদম খালি হয়ে যায় তাদের পকেট। তাদের রেমিট্যান্স দেশে পৌছালে চলে যায় ডাক্তার খরছে, মুদির দোকানে, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন বাবদসহ মেহমানদারিতে ইত্যাদি। মাস শেষে প্রবাসে ও দেশে কোন অর্থই আর অবশিষ্ট থাকে না, বলতে গেলে মাসের আয় মাসেই শেষ।

এদিকে যারা পরিবার নিয়ে প্রবাসে আছেন, তারা কেউ হয়তো ব্যবসা বা ভালো মানের চাকুরী করছেন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের ব্যাংকে মোটামুটি নগদ অর্থ জমা থাকে এবং বছর শেষে তাদের মধ্যেই কেউ কেউ সিআইপি বনে যান।
এবার আসা যাক সাধারণ প্রবাসীদের কথায়, যাদের সংখ্যা বিশাল। এই প্রবাসীদের নিয়ে পুরো বছর জুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এয়ারলাইনস কোম্পানি ব্যবসা করে, কিন্তুু এই দুঃসময়ে বাংলাদেশী বিভিন্ন বিমান প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসে হাত গুটিয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সাধারণ প্রবাসীদের এক বেলার খাদ্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারত !

এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে যে খাদ্য সামগ্রী সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে বিতরণ করেছে তা নিতান্তই কম সংখ্যক মানুষ পেয়েছে। আজ একটি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম, মাননীয় প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বিভিন্ন দূতাবাসের জন্য আবারো নতুন করে তিন কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দ করেছেন। আমার কেন যেন মনে হয়, এই টাকাতেও প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর খাদ্য চাহিদা মেটানো যাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারেই বর্তমানে প্রায় চার লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। ধরে নিলাম সামর্থবান পঞ্চাশ হাজার মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন নেই কিন্তুু বাকি আছে আরো প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে যদি বিশ হাজার জনকে কাতারি দুইশত রিয়াল আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হয় তাহলে ‘নয় কোটি’ টাকার উপরে প্রয়োজন। মন্ত্রী মহোদয় এটাও বলেছেন যে, বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ি আছেন। সে-সকল ব্যবসায়িরা যেন সাধারণ প্রবাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। মাননীয় মন্ত্রীর এই কথায়, আমি কিছু কথা বলতে চাই তা হলো, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনগুলোর উর্ধতন কর্মকর্তারা যদি নিজ উদ্যোগে স্ব স্ব দেশের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী ব্যবসায়িদের সাথে জরুরী নোটিশের মাধ্যমে বৈঠক করে এবং তাদের থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে যৌথ সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্তে এসে এই মহামারীর ক্রান্তিকালে সাধারণ প্রবাসীদের পাশে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন তাহলে খাদ্য কষ্টে থাকবে না কোন প্রবাসী বাংলাদেশী।

লেখক: কাজী শামীম, কাতার সাংবাদিক

 

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...