নো রিল্যাক্স; বি সিরিয়াস

শিপন হালদার :
বিশ্বজুড়ে আবারো মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোন কোন দেশে আবার জারি করা হচ্ছে জরুরি অবস্থা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। মালয়েশিয়ায় এরইমধ্যে সংক্রমণে রেকর্ড করেছে। জনগণকে জোরেশোরে সতর্ক করা হচ্ছে। সাবধান করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। উৎসাহিত করা হচ্ছে মাস্ক ব্যবহারে।

প্রসঙ্গ বাংলাদেশ : আমরা কি করছি? আমরা কি সচেতন? সাবধান হচ্ছি আগেভাগে? নাকি করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে অবহেলার চোখে দেখছি! শেষের কথাটাই হয়তো ঠিক। ব্যক্তিগতভাবে আমারও মনে হয় না, বিষয়টিকে আমরা সাধারণ মানুষ, তেমন কোন গুরুত্ব দিচ্ছি। পথে নামলেই দেখা যাচ্ছে, কোন পরোয়া করছি না। অনেকে মাস্ক ব্যবহারও ভুলে গেছি। সব দেখে মনে হচ্ছে, দিনকে দিন জীবনের মূল্য কমে যাচ্ছে! একটা রিল্যাক্স ভাব সবার মাঝে! যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

সুখবর হলো, সরকার এবার আগেভাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে গুরুত্বে সাথে নিয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত ভাচ্যুয়াল বৈঠকে কোভিড-১৯ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা প্রাদুর্ভাবের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় করোনা রোধে আগেভাগে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরামর্শ দিয়েছেন মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা মেনে চলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক ব্যবহার করলে করোনা সংক্রমণের হার কমে যাবে। এ ব্যাপারে আবারো সবাইকে সিরিয়াস হতে হবে। পরিবারের সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। সঙ্গতকারণেই, যার যার অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। অনেকে মনে করছেন, পাবলিক প্লেসগুলোতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়োগ করার সময় চলে এসেছে। মসজিদে সামাজের সময় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরইমধ্যে অতিরিক্ত বয়স্ক লোক ও শিশুদের মণ্ডপ প্রাঙ্গণে না নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আশা করবো, সবাই নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক হবো। সবাইকে আবারো বলার সময় এসেছে, মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বলা বলেছে সরকার। খুব ভাল কথা, তবে তার আগে দরকার গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা। অফিস-আদালত আগের মতো দূরত্ব মেনে দূরত্ব মেনে চলা। প্রয়োজনে ভাচ্যুয়ালি সব কার্যক্রম পরিচালনা করা।

মহামারি করোনার বিষয়ে আবারো সাধারণ মানুষকে মোটিভেট করতে হবে। সবকিছু শুরু করতে হবে নতুন করে। সঠিক ও কঠোর নির্দেশনা জারির পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোকেও সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাকে, আমাকে আবারো পরীক্ষা দিতে হবে প্রতিনিয়ত। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সাবধান করতে হবে। আর নয় রিল্যাক্স ভাব। দরকার সবার সিরিয়াসনেস।

লেখক : শিপন হালদার, নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...