আমার দেখা মার্কিন নির্বাচন

মুনওয়ার আলম নির্ঝর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মোটামুটি খোঁজখবর রাখছিলাম। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে খানিকটা আগ্রহ আগে থেকেই। এরপর নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে আমাদের নির্বাহী সম্পাদক শিপন হালদার জানালেন, আমরা মার্কিন নির্বাচনকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দিতে চাই। সেই সুবাদে তৈরি হলো স্পেশাল টিম। সৌভাগ্যক্রমে সেই টিমে মন দিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

সিদ্ধান্তের পরেরদিন থেকেই আমরা মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করে দিই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নিয়ে আমরা নিয়মিত টকশো করেছি, মতবিনিময় করেছি, শুনেছি-জেনেছি অনেককিছু। সেগুলোই মার্কিন নির্বাচনকে আমাদের পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হয়। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে দেশে যেমন আমাদের নিউজ ও প্রোডাকশন টিম কাজ করেছে, ঠিক একইভাবে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি এমদাদ দিপুও সমানে কাজ করে গেছেন।

এবার একটু নির্বাচনের কথা বলি। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে গোটা দুনিয়ার যেমন আগ্রহ তেমনি আমাদেরও আগ্রহ ছিল। তবে এই নির্বাচনে লক্ষ্য করার মত বিষয় ছিল, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমের সাথে সম্পর্ক! অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, এদের সাথে খারাপ সম্পর্ক থাকার কারণেই কেবল তিনি এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংবাদ মাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। যার ফলাফল নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজ ছাড়া কোন সংবাদমাধ্যমকেই আর পাশে পাননি তিনি। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সাথে সরাসরি বিবাদেও জড়িয়েছিলেন এই রিপাবলিকান সমর্থক। যার জন্য হয়তো অনেকবেশিই তার ব্যাপারে সতর্ক ছিল টুইটার। ফেসবুকও যথেষ্ট সতর্ক আচরণ করেছেন ট্রাম্পের বিপক্ষে।

অপরদিকে চতুর বাইডেন খুব সতর্কতার সাথে এগিয়েছেন। ট্রাম্প যেখানে যেখানে ভুল করেছেন সেখানে সেখানেই এগিয়ে গেছেন জো বাইডেন। বাইডেনের তেমন কিছু করতেই হয়নি। ট্রাম্পই তার উদ্ভট আচরণ আর কথাবার্তার দ্বারা বাইডেনকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়াও বাইডেন বেশ দক্ষ একজন রাজনীতিবিদ। আর অপরদিকে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখাতে পারেনি। তার বড় উদাহরণ ছিল, নির্বাচনের বছর করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন সামাল দিতে না পারা।

তবে এবার নির্বাচন ঠিক সময়ে শুরু হয়ে শেষ হলেও, আসল ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় চার দিনের মত। যেটা গোটা বিশ্বকেই অস্থির করে তুলেছিল। অনেক সময় নেয়ার পর ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ফলাফল এসেছিল কাঙ্ক্ষিতই। বাইডেনের জয়ে ব্যাপারে সবাই অনেকটা নিশ্চিতই ছিলেন।

জো বাইডেন কিংবা ডেমোক্রেটদের সবাই ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিল, ট্রাম্পের পাগলামির হাত থেকে রক্ষা পেতে। তবে নির্বাচনের পর এখন আলোচনায়, বাইডেন কতটা সঠিকভাবে কাজ করবেন? নাকি আগের প্রেসিডেন্টদের মত যুদ্ধবাজই হবেন তিনি, সেটাও প্রশ্ন।

অতীতে ডেমোক্রেটদের উপমহাদেশে নিয়ন্ত্রণের ‘চেহারাটা’ খুবই ভয়ংকর। হয়তো সেই দৃশ্য আমাদের আবারও দেখতে হবে। তবে যাই ঘটুক না কেন , মার্কিন নির্বাচন থেকে ভালো একটা অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...