আকাশে উড়তে বাধা নাকি উড়াতে!

শিপন হালদার:

করোনাকালে আকাশ অচল। বিকল আকাশযানের পাখা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেকার। লোকসানে ভরাডুরি কোম্পানিগুলোর। স্থলভাগের মতো আকাশেও হাহাকার। অনিশ্চয়তা চারদিকে। এতোকিছুর মধ্যেও জীবন থেমে নেই। চলছে বেঁচে থাকার লড়াই, সংগ্রাম।

প্রবাসী ভাই-বোনদের অভিযোগ, তাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই! সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন কী করছে! অনেকে দাবি করেছেন, ভয়াবহ সিন্ডিকেটের কবলে এভিয়েশন খাত। নৈরাজ্য চলছে সবখানে। ইচ্ছেমতো কয়েকগুণ ভাড়া দিয়েছে কাতার, এমিরেটস। সবাই কি পারবে, এতো খরচ করে আকাশে উড়তে? করোনায় সে সামর্থ্য আছে ক’জনার? বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো বিমান চালাতে চায়। কিন্তু তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে। না আকাশে উড়তে দেয়া যাবে না। আগে সিন্ডিকেটের ব্যবসাটা হোক!

ভুক্তভোগী প্রবাসীরা বলছেন, ইউরোপে একবারের ভাড়া দিয়ে আগে অন্তত ৫ বার যাওয়া-আসা করা যেতো। ওয়ান ওয়ে, কি টু ওয়ে-কোন ছাড় নেই! করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছে প্রবাসীদের পকেট খালি করে। বাজারের সবজি বিক্রেতাদের মতো ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে! যাবি কই! অগত্যা উপায় নেই। জীবনের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে প্রবাসীদের বিমানে চড়তেই হবে! অথচ সরকার নির্বিকার। ভাবনার মধ্যে সময়ক্ষেপণ করলেই তো সিন্ডিকেটের পকেটভারি!

সংক্ষেপে বিষয়গুলো একটু নজর দেয়া যাক।আপনারা জানেন, দীর্ঘদিন পর সীমিত পরিসরে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে যাত্রীর চাপ বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মাত্র তিনটি বিমান সংস্থাকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (ঢাকা-যুক্তরাজ্য-ঢাকা), কাতার এয়ারওয়েজ (ঢাকা-দোহা) এবং এমিরেটস (দুবাই-ঢাকা) রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। মাঠে আর কেউ নেই, তো এই সুযোগে আকাশছোঁয়া দাম আকাশযানের টিকিটের। খেয়ালখুশি দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রবাসীদের দীর্ঘশ্বাস কেউ বুঝছে না। ভেবে দেখছে না কীভাবে এই ভার তারা বহন করবে।

করোনায় দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের সামনে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত। টাকা জোগাড় করতে না পারলে আর যাওয়া হবে না, প্রিয় কর্মস্থলে। আমার পরিচিত অনেকেই আছেন, টাকার অভাবে নিজের ফ্লাইট নিশ্চিত করতে পারেননি।

তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে এয়ার এরাবিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থাকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। একসাথে সব এয়ারলাইন্সকে অনুমতি দিলে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেক কমে যেতো। টিকিটের দামও কমতো।এখানে কী স্বার্থ বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের! আবেদন করার পরও এয়ারলাইন্সগুলো ঝুলিয়ে রাখতে হবে কেন?

সারা দুনিয়া একদিকে, আর আমরা একদিকে! সবখানে অজুহাত! আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নিউজনাউ কথা বলেছে বেবিচকের এক কর্মকর্তার সাথে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বিমান ভাড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ বিষয়ে বেবিচকের অন্তর্ভূক্তি নেই। তবে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে মোট আসন সংখ্যার ৭৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয়ায়, বিমান ভাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে। যেখানে একটি বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০-২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো, সেখানে মাত্র তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

পাঠক, আমার উপরের লেখাগুলোর সাথে নিশ্চয় মিল খুঁজে পেয়েছেন। সবশেষে আরেকটা খবর জানাবো আপনাদের। বাংলাদেশের অনুমতি না পাওয়ায় ৬ জুলাই পর্যন্ত সব টিকিট বাতিল করেছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। আর টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন যাত্রীরা।

আশা করবো, সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন-বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখবে। প্রবাসীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াবে সরকার।

লেখক: শিপন হালদার, নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...