উত্তরে কমছে বন্যা, বাড়ছে ভাঙন

নিউজনাউ ডেস্ক: উজানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা সুখবর। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমায় ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি যমুনা হয়ে পদ্মায় প্রবাহিত হওয়ায় মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিপদ এসে গ্রামীণ জনপদে হাজির হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মধ্যাঞ্চলেও নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম থেকে গাইবান্ধা হয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীভাঙন তীব্র হতে শুরু করেছে। নদী নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর ধরে দেশে নদীভাঙনের পরিমাণ কমছে। কিন্তু এ বছর বন্যার কারণে তা বাড়তে পারে।

গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়ার তীরবর্তী গাইবান্ধার চারটি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ পানিবন্দী। পানি কমেছে সামান্য। এদিকে গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি এলাকায় সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ডুবে গেছে। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদের পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। পানি কমলেও আজ শনিবার সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়িঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদের পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৬টায় করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও কাজিপুর পয়েন্টে ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনায় পানি সামান্য কমলেও নদীর তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক। বন্যাকবলিত এলাকার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী। অনেকে স্থানীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতিই হচ্ছে। যমুনা নদীতে পানিবৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও অভ্যন্তরীণ নদনদীতে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ইতোমধ্যে জেলার সোয়া দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাঁধ ও রাস্তাঘাট।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...