alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে পাম তেলের দাম কমলেও সুফল নেই দেশে

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:১৩ এএম

বিশ্ববাজারে পাম তেলের দাম কমলেও সুফল নেই দেশে
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে পাম তেলের দাম কমেছে। প্রতি টন পাম তেল ৭ হাজার ৭৫৭ রিঙ্গিত থেকে নেমেছে ৩ হাজার ৭৫৯ রিঙ্গিতে। এর প্রভাবে দেশের পাইকারি বাজারে দাম কমলেও কমছে না খুচরা বাজারে।

গত মে মাসে যখন বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্থিতিশীল হয়, তখন দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। সে সময় কয়েক দফায় দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপর তিন মাস ধরে দাম কমতে থাকলেও দেশে কমেনি। বরং বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে এখনো।

তবে পাইকারি বাজারে পাম তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বুধবার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা প্রতি লিটার। আর সয়াবিন ১৫৫ টাকায়। কিন্তু তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো দাম সমন্বয় না করার কারণে খুচরা বাজারে তাদের আগের নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৫ টাকা এবং খোলা পাম তেলের ১৪৫ টাকায় বিক্রি করছে

ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। কিন্তু কমলে দীর্ঘ সময়েও তার প্রভাব পড়ে না। অর্থাৎ দাম বাড়লে শতভাগ মাশুল দিতে হয় ভোক্তাকে, কিন্তু কমলে তার সুফল পান না। সেজন্য তারা অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার প্রতি টন পাম তেল ৩ হাজার ৭৫৯ রিঙ্গিতে লেনদেন হয়েছে। গত জুন মাসের পর থেকে তেলের দামে এ পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাঝে আগস্টে দাম সামান্য কিছুটা বাড়লেও তা সেপ্টেম্বর থেকে আবারও কমছে। চলতি মাসেই প্রথম দুই সপ্তাহে তেলের দাম কমেছে টনপ্রতি প্রায় ৫শ রিঙ্গিত।

দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি পাম তেল আমদানি হয় মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে। ওইসব দেশে এবার পামের ভালো ফলন হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় কমেছে তেলের চাহিদা। সে কারণে দ্রুত এসব দেশের বাজারে তেলের দাম কমছে বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষক সংস্থাগুলো।

এদিকে দেশে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমছে। ফলে দেশের বাজারে তা সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে (অক্টোবর) ভোজ্যতেলের দাম আরও একধাপ কমতে পারে। এরই মধ্যে এ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এসব বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দীর্ঘদিনেও দেশের বাজারে পণ্যটির দাম সমন্বয় হয় না। দাম কমলে ব্যবসায়ীরা উল্টো সুর দেন, নানা অজুহাত দেখান।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X