alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ. লীগের একাধিক প্রার্থী

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৭:৩৭ পিএম

পটুয়াখালীতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ. লীগের একাধিক প্রার্থী
alo

 

এম কে রানা, পটুয়াখালী থেকে: পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

আগামী ১৭ অক্টোবরের নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে কারা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করায় আবারও নির্বাচনী হাওয়া বইছে জেলা ও উপজেলা শহর গুলোতে। এবারও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীকে। তাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্তত সাতজন নেতা ভোটের মাঠে থাকার কথা বলেছেন। তারা এবার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানিয়েছেন। তারা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন।

তবে এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী বা বামদলগুলোর তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়েনি। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। ২০১৬ সালের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি।

পটুয়াখালী জেলা পরিষদে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য সাত প্রার্থীরা হলেন- জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক ভিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান মোহন মিয়া, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পটুয়াখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজের দুই দুইবার নির্বাচিত ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ ও পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম আলমগীর মিঞা। 

এছাড়াও জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি আওয়ামী রাজনীতি পরিবারের সন্তান মো. তসলিম সিকদার, আরও মনোনয়ন চাইবেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য, রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, একেএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, নবগঠিত রাঙ্গাবালী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রেডক্রিসেন্ট পটুয়াখালী ইউনিটের সেক্রেটারী সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। 

তবে, পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে কয়েকজন তারমধ্যে সুলতান আহম্মেদ মৃধা অন্যতম। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন স্থানীয় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। সরাসরি জনসাধারণের ভোটাধিকার না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে আনন্দ না থাকলেও রয়েছে নানান গুঞ্জন। অধির আগ্রহ নিয়ে সকলে এ নির্বাচন উপভোগ করবেন।

আসন্ন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা। জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

দলের সব পর্যায়ের নেতা ও কর্মীদের কাছে সুলতান আহমেদ মৃধা দলের একজন সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত, বিচক্ষণ, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত। বিগত দিনের বিভিন্ন নির্বাচন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভোটের রাজনীতিতে পটুয়াখালীতে অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছেন অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা। জেলায় তাকে সবাই জনবান্ধব নেতা হিসেবে চেনেন। সবার সঙ্গে সদালাপি এবং সুখে-দুঃখে সব সময় সবার পাশে থাকেন। যে কোনো সময় দলীয় নেতা কর্মীরা ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন এবং খোজ খবর রাখেন। 

সুলতান আহমেদ মৃধা দলীয় মনোনয়ন পেলে পূর্বের তুলনায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলায় সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণ। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

শিক্ষা জীবন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৬৬ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে জীবন বাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তারপর ১৯৯৪ সাল থেকে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্তি হয়ে আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শেও ওপর অটল থেকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সুলতান আহমেদ মৃধা ১৯৭০ সনে যশোর বোর্ডের অধীন পটুয়াখালী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী থেকে এস,এস,সি পাশ, ১৯৭২ সালে যশোর বোর্ডের অধীন পটুয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ, ১৯৭৪ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পটুয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (হাজী মোহাম্মদ মহসীন হল) থেকে এম, এ পরীক্ষায় পাশ এবং ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ, ঢাকা) থেকে ‘ল’ পাশ করেন। 

সুলতান আহমেদ মৃধা বর্তমানে সক্রিয় ও নিবেদিত হয়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিনিয়ত দলীয় ও সরকারি কর্মসূচিতে রয়েছে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি। তার রাজনৈতিক জীবনে সফলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণেই ১০ম জাতীয় সংসদে তার স্ত্রী মিসেস লুৎফুন নেছাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তিনি দলের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কোনো কার্যকপাল করেননি।

১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়ে বরিশাল বিভাগে ৬ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫ জন ছিল বিএনপি থেকে নির্বাচিত। একমাত্র সুলতান আহমেদ মৃধা আওয়ামী লীগ থেকে ব্যাপক ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় বিএনপি সরকার তাকে করারুদ্ধ করেছিল। এছাড়াও ২০০১ সালে আলতাফ চৌধুরী সময় মামলা দিয়ে ২ মাস ১৪ দিন হাজতবাস করিয়েছে।

সুলতান আহমেদ মৃধার পটুয়াখালীর সামাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রতিষ্ঠা করেছেন হাজী হামেজ উদ্দিন মৃধা ডিগ্রি কলেজ। এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন লোহালিয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসা, পটুয়াখালী টাউন উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ মাহমুদুর রহমান পলাশ বৃত্তি প্রদান ফাউন্ডেশন, হোসাইনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও চন্দনবাড়ীয়া জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব এবং কার্যকরি কমিটির সদস্য হিসেবে আব্দুল করিম মৃধা কলেজ, উপদেষ্টা হিসেবে থেকে টাউন জৈনকাঠী জৈনপুরী হুজুরের খানকায়ে হাফেজিয়া মাদরাসা ও পুরান বাজার জামে মসজিদ মাদরাসা কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অবর্ণনীয় ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের পটুয়াখালীর সদস্য, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য, আজীবন সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজি: গ্রাজুয়েট সদস্য। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পটুয়াখালী ইউনিটের ভাইস-চেয়ারম্যান, পটুয়াখালী ডায়েবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি, পটুয়াখালী বি,এন,এস,বি চক্ষু হাসপাতাল ও পরিবার পরিকল্পনা সমিতির আজীবন সদস্য। পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি, আয়কর আইনজীবী সমিতি ও পটুয়াখালী ক্লাবের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। পটুয়াখালী শেরে-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য। ২০১৫ সাল থেকে সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন পটুয়াখালী জেলা শাখা। সভাপতি হিসেবেও কাজ করছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমের বিকাশের রয়েছে তার অবদান। নিজে প্রকাশক ও সম্পাদকে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করেন দৈনিক পটুয়াখালী পত্রিকা, রয়েছেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে। ব্যবসা বাণিজ্য এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছেন। দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জেলা পরিষদগুলো পুনরুজ্জীবিত করা হয় ।

পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে গত ১৭ এপ্রিল দেশের ৬১ জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে সরকার। এর ১০ দিন পর ২৭ এপ্রিল সরকার জেলা পরিষদে সদ্য সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ২৩ অগাস্ট নির্বাচন কমিশন তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে ৬১ জেলা পরিষদে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। এতে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত ৬৩ হাজারের বেশি জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তফসিল অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X