সীমিত নয়, পুরোপুরিই দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস

মুনওয়ার আলম নির্ঝর: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। প্রাণচঞ্চল ঢাকা শহর ধীরে ধীরে একেবারে নিস্তেজ হয়ে যায়। তবে অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে দেশের সব কিছু সীমিত আকারে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজও শুরু হয়। সীমিত আকারে সবকিছুই স্বাভাবিক হতে শুরু করে, আর প্রাণ ফিরে পায় ঢাকা।

আজ ৫ মে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সীমিতি আকারে খুলে যাওয়া ঢাকার পরিবেশের দিকে একটু নজর দেয়া যেতেই পারে। আর তাই পরিবেশের অন্যতম উপাদান বাতাসের খোঁজ করতে, রিয়েল টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের দিকে তাকিয়ে বেশ খানিকটা আঁতকে উঠতে হয়।

সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়েও ঢাকার বাতাসে বিষের পরিমাণ ছিলো অনেক কম। কিন্তু ঢাকার বাতাসে আবারও বিষ বেড়েছে। ঢাকার বাতাসে বায়ুদূষণের পরিমাণ ১৭৭। যেটা বায়ুদূষণে পরিমাপকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবেই ধরা হয়।

করোনার আগে ও পরে রাজধানী ঢাকার শব্দ ও বায়ু দূষণের পার্থক্য নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সেই গবেষণায় স্পষ্টই পার্থক্যটা চোখে পড়ছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার সময় ঢাকা অবরুদ্ধ থাকায় বায়ুমান সূচক বা একিউআই ১০০-এর নিচে নেমে আসে।

ঢাকার বায়ুমান কমিয়ে আনতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসহীন গাড়ি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এছাড়া ঢাকায় আলাদা বাইসাইকেল লেন চালু করা, সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে জোড়-বিজোড় গাড়ি চালানো, ছাদ-বাগানে সবুজ আচ্ছাদন করা, জলাধার সংরক্ষণ এবং ইটভাটায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বায়দূষণের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছে যে, দূষণের শহরের তালিকায় সাত নম্বরে উঠে এসেছে তিলোত্তমা এই শহর। রাষ্ট্র সীমিত আকারে সব খুলতে চাইলেও দূষণ সীমিত আকারে রাখতে পারছে না। ফলে শহর যেমন চেনা রূপে ফিরছে ঠিক একইভাবে সেই দূষণেও ফিরছে ৪০০ বছরের পুরাতন ঢাকা।

নিউজনাউ/এমএএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...