দেশের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে চার লাখ

0 61

মুনওয়ার আলম নির্ঝর: করোনার প্রভাবে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীজুড়ে চাকরি হারাবে প্রায় ১২৯ কোটির মতো মানুষ। এই চাকরি হারানোর অবস্থা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতেও। যার মধ্যে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুরিজম খাতকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় দেখতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ট্যুরিজম ইনোভেশন (বিএসটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি’র ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুল্লার রাব্বী নিউজনাউ এর কাছে দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে এই খাত ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। দেশে এই খাতের প্রায় চার লক্ষ কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে এখন। করোনা পরিস্থিতি যদি সামাল দেওয়া না যায় তবে আগামী মাস থেকেই এই খাতের শ্রমিক ছাঁটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।

দেশে ৭৮০টি ট্রাভেল এজেন্সি সরাসরি প্লেনের টিকেটের কাজ করতো। যারা অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্টস অফ বাংলাদেশ (আটাব) এরও সদস্য ছিল। কিন্তু গত এক মাসে তাদের মধ্যে থেকে কমপক্ষে ১০০ এর মতো এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশনের (আইএটিএ) মাসিক ফি দিতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সাইফুল্লার রাব্বী বলেন, ইতিমধ্যেই ১০০ এর মতো এজেন্সি দেউলিয়া হয়ে গেছে। করোনা শেষ হলেও তাদের আবার এই কাজে ফিরতে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে। আর পরিস্থিতি এমন চললে আরও তিন থেকে চারশ এজেন্সি দেউলিয়া হতে বাধ্য হবে। ফলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী চাকরি হারাবে দেশে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-টোয়াব এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পর্যটন খাতে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্টস অফ বাংলাদেশ-আটাব এর হিসাব অনুযায়ী করোনার প্রভাবে জুন অবধি ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুরিজম খাতে সম্মিলিত ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা ১২ হাজার কোটি টাকা। আর এই বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে সংগঠনটি বারবার রাষ্ট্রীয় সাহায্যের আবেদন করে আসছে।

এ বিষয়ে আটাব’র সেক্রেটারি জনাব ইমরান নিউজনাউকে বলেন, আমরা এর মধ্যেই চিঠির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা চেয়েছি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় সহজ শর্তে বা সুদ ছাড়া ঋণেরও দাবি করেছি।

এছাড়াও কর্মচারী ছাঁটাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই না কর্মচারী ছাঁটাই হোক। কারণ এরা সব অভিজ্ঞ কর্মী। সহজে অভিজ্ঞ মানুষ পাওয়া যায় না। আমরা চেষ্টা করবো শেষ পর্যন্ত এই কর্মীদের ধরে রাখার।

টুইন ট্রাভেল এর জেনারেল ম্যানেজার মহতাসিন চৌধুরি নিউজনাউকে জানান, করোনার কারণে বন্ধ থাকায় আর্থিক ঝুঁকির পাশাপাশি মানসিক চাপেও ভুগছেন। কারণ এভাবে যদি সামনের মাসও চলে তাহলে বিনা নোটিশে কর্মী ছাঁটাই করতে শুরু করতে হবে।

মহতাসিন চৌধুরি বলেন, কোনো আয় নেই। তার ওপর মাসে দুইবার আইএটিএ’র মাসিক ফি দিতে হচ্ছে নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। এভাবে তো বেশিদিন চালানো সম্ভব হবে না। কোনো ধরনের সরকারি প্রণোদনা না পেলে প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে দিতে হবে।

দেশে আটাব’র সদস্যভুক্ত ট্রাভেল অ্যাজেন্সি রয়েছে ৩ হাজার ৭০০টি। যার সাথে কয়েক লক্ষ মানুষ যুক্ত। এখনই সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই খাতের পাশাপাশি খাতটিতে কর্মরত কয়েক লক্ষ কর্মীও ঝুঁকিতে পড়বে।

নিউজনাউ/এমএএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...