দিনশেষে পথেই ফিরতে হয় পথশিশুদের

মহিউদ্দিন আল মাহি: শিশু শব্দটার সাথে মিশে আছে ভালোবাসা, আদর এবং মমতা। কিন্তু শিশুদের যখন পথশিশু, টোকাই, রাস্তার ছেলে ইত্যাদি নামে ডাকা হয় তখন বিষয়টা আঘাত করে প্রতিটি সচেতন মানুষের হৃদয়ে।

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু শিশুদের নিয়ে বলেছিলেন “শিশুরা হচ্ছে বাগানের কাদা মাটির মত। তাদেরকে খুব সতর্ক ও আদর-সোহাগ দিয়ে যত্ন করতে হবে।” তাঁর মতে শিশুরা হচ্ছে পৃথিবীর সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিশুদের জন্য যদি সুন্দর পৃথিবী গড়া যায় তাহলে তাঁরা একদিন এই পৃথিবীকে শান্তি সুখের পৃথিবীতে রূপান্তর করবেন। এর জন্য আগে একজন শিশুর সব বিষয়ে বাবা-মাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারণ পারিবারিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যদি কোন শিশু বেড়ে ওঠে তবে ছোটবেলা থেকেই শিশুর মানসিক একটা সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই মানুষের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো তাঁর পরিবার। তাই প্রতিটি শিশু জন্মের পর পরিবার থেকে যেভাবে বেড়ে উঠবে তাঁর ভবিষ্যৎ সেভাবেই তাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রে এল উইলবারের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে “সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে মুগ্ধকর এবং আকর্ষণীয় হল, শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা”। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। আজ যারা শিশু, কাল তারাই বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। আজ যারা বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, একদিন তারাও শিশু ছিলেন। শিশুদের হাত ধরেই যুগেযুগে আধুনিক হচ্ছে পৃথিবী। একজন শিশু জন্মের পর থেকেই পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করতে শেখে। মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার পরেই পৃথিবীর আলো বাতাসের সাথে যুদ্ধ করে তাকে নিঃশ্বাস নিতে হয়। এরপর আস্তে আস্তে শুরু হয় তাঁর বেঁচে থাকার জন্য আসল যুদ্ধ। যার নাম জীবন যুদ্ধ। এর মধ্যেই পরিবার তাঁর মধ্যে দেখতে পায় লুকিয়ে থাকা এক অপার সম্ভবনা। একজন শিশু হাটতে পারার আগেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করে পরিবার। হাঁটতে শুরু করলে, ভবিষ্যতে কি হবে ডাক্তার নাকি ইঞ্জিনিয়ার এইসব ভাবনা।

বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা পাই এক মানবেতর চিত্র। দেশে পথশিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর মূলে রয়েছে অজ্ঞতা, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। একশ্রেণির অশিক্ষিত ও দরিদ্র মানুষ অপরিকল্পিতভাবে সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর তাদের ত্যাগ করে। এভাবেই বাড়তে থাকে অবহেলিত পথশিশুর সংখ্যা। এসব পিতামাতা সন্তানদের মারধর করে রোজগার করার জন্য। তখন থেকেই শুরু হতে থাকে তাদের অবহেলিত কষ্টের জীবন। তাদের এই জীবনের প্রথম থেকেই একটা বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা হয়ে যায়। বেচে থ্যাকার জন্য সবার প্রথম দরকার নিজের মৌলিক চাহিদা কোনরকম পুরণ করা। বেঁচে থাকার তাগিদেই অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পরে অনেকেই। এ

ঢাকাসহ সারাদেশে পথশিশুদের নিয়ে অনেক বেসরকারি সংগঠন কাজ করে। কেউ খাবার দেয়। কেউ পোশাক দেয়। কেউ দেয় শিক্ষা। কেউ আবার তাদের বিনোদনের ব্যবস্থাও করে দেয়। তবে দিনশেষে পথেই ফিরতে হয় পথশিশুদের।

নিউজনাউ/এমএম/এসএ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...