করোনা ঝুঁকিতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য-কর্মীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:  সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজার সড়কের একটি  দোকান থেকে এক ব্যক্তিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত এক ঢালা প্লাস্টিকের রেইনকোর্ট কিনতে দেখা গেলো। এখন তো বৃষ্টির সময় নয়, তাহলে কেন রেইনকোর্ট কিনলেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন তিনি সাতক্ষীরার মাঠ পর্যায়ের একজন স্বাস্থ্যকর্মী।

নিজের ঝুঁকি এড়াতে এটি কিনেছেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সাতক্ষীরার মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরাও এই ঝুঁকি থেকে বাদ যাচ্ছেন না।

ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিজ কর্মস্থলের বাসায় অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে বাড়িতে থাকতে পারছেন না মাঠ পর্যায়ের কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীরা। এতে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাঠ পর্যায়ের এই স্বাস্থ্যকর্মী।

 

ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরা মানুষদের নিয়ে আতঙ্ক বেড়েছে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝেও।

 

নাম-পদবী প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, করোনা নিয়ে বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরাও সেবা দিতে যে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের জন্য তেমন বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ সংক্রান্ত পোশাক-পরিচ্ছদ সরঞ্জাম কিনেছি।

 

তিনি বলেন, হাসপাতালের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সময় বণ্টন অর্থাৎ ডিউটি, শিফট নির্ধারিত থাকে। একাধিক ডাক্তার-নার্স থাকায় তারা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। তবে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদের কর্মস্থলে একা একজন-ই দায়িত্বে থাকায় বিপাকে পড়েছি।  উদ্বেগে আর ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে সব সময়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ‘করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে অন্যতম প্রধান উপায় অন্য মানুষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। প্রশাসন ইতোমধ্যে সকলকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আর উপজেলা হাসপাতাল ছাড়া গ্রামাঞ্চলের কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা দেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। তারপরও আমরা মানুষের জন্য দায়িত্ব পালন করছি অথচ আমাদের নিজেদেরই কোন নিরাপত্তা নেই। অফিস থেকে আমাদের প্রাথমিকভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে রেইনকোর্ট কিনতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাজারে রেইনকোট পাওয়া যাচ্ছে না গেলেও দাম দ্বিগুণ।

 

বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজের সুরক্ষার স্বার্থে,  মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাসায় অবস্থান অথবা জরুরী প্রয়োজনে ডিউটির সময় কমিয়ে আনা অথবা নিজেদের মধ্যে শিফট ভাগ করে দেয়া উচিত। কোন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া নিজেরা অরক্ষিত থেকে ভাইরাসজনিত কোন অঘটন ঘটলে শুধু সেই ভুগবে না, বরং অন্যদেরও ভুগতে হবে। এর দায় নেবে কে ?

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাক্তার হুসাইন শাফায়াত বলেন, আমাদের কাছে যে পরিমাণ পিপিই ছিল তার অধিকাংশ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার-নার্সদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ‘রেইনকোর্টে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারবে না। সেজন্য বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের রেইনকোর্ট কিনতে বলা হয়েছে। আমাদের কাছে খুব কম সংখ্যক পিপিই আছে।

সেগুলো এখন ব্যবহার করলে পরে কোন পজেটিভ কেস পেলে তখন সংকট পড়বে। বর্তমানে যে সংখ্যক পিপিই আছে সেগুলো  যারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করবে শুধুমাত্র তাদের দেওয়া হবে বলে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি বরাদ্দ পেলে তাদের মাঝেও পর্যায়ক্রমে পিপিই বিতরণ করা হবে জানান সিভিল সার্জন।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ