আজ ‌‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর এই মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষক। শিক্ষকদের তাই বলা হয় ‘জাতি গড়ার কারিগর’। শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর আজকের দিনে অর্থাৎ ৫ অক্টোবর পালন করা বিশ্ব শিক্ষক দিবস। মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও আজ যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় শিক্ষকসমাজ’। শিক্ষকরা যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতেই দিবসটি পালন করা হয়।
ফ্রান্সের প্যারিসে ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষকদের অবস্থা নিয়ে আন্তঃসরকার সম্মেলন হয়েছিল। সেখানেই শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও)। তারা কিছু পরামর্শে স্বাক্ষর করে। প্রথমবারের মতো এসব পরামর্শ শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব এবং বিশ্বব্যাপী শিক্ষকতা পেশার বিভিন্ন দিক নিয়ে ছিলো।

১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে ‌‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরের বছর প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়। তবে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে শিক্ষকরা মোটা দাগে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন শুরু করেন। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষকদের মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষকের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা, শিক্ষকদের অধিকার সম্পর্কে জানানো, মানসসম্মত শিক্ষা তথা সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করা এবং প্রবীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকে জানা ও কাজে লাগানোই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।
৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হলেও অনেক দেশে দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালিত হয়। যেমন- ভারতে শিক্ষক দিবস পালিত হয় ৫ সেপ্টেম্বর। অস্ট্রেলিয়ায় পালিত হয় অক্টোবর মাসের শেষ শুক্রবার। শেষ শুক্রবার যদি ৩১ অক্টোবর হয়, তা হলে ৭ নভেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ভুটান শিক্ষক দিবস পালন করে ২ মে, ইন্দোনেশিয়া ২৫ নভেম্বর, মালয়েশিয়া ১৬ মে, ইরান ২ মে, ইরাক ১ মার্চ, আর্জেন্টিনা ১১ সেপ্টেম্বর, ব্রাজিল ১৫ অক্টোবর, চীন ১০ সেপ্টেম্বর, তাইওয়ান ২৮ সেপ্টেম্বর, থাইল্যান্ড ১৬ জানুয়ারি, সিঙ্গাপুর সেপ্টেম্বরের প্রথম শুক্রবার দিনটি পালন করে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে করোনার কারণে অনেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে সমাবেশ আহ্বান করেছে। সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করেছেন শিক্ষক নেতারা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষক সমিতির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ১৫১টি দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয় না। এ দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। তারা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৬ বছরেও পরিবর্তন হয়নি, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নিয়ে করোনার এ দুঃসময়ে গৃহবন্দী শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম অর্থসংকটে। তাই অবিলম্বে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা করে জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
অন্যদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম দুপুর আড়াইটায় ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর- রুনি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ও মুজিব শতবর্ষে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ বিষয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...