সঙ্গীতাঙ্গনে বাজছে ঐক্যের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গেল অর্ধশত বছর ধরেই বাংলাদেশ সঙ্গীতাঙ্গনে উন্নয়নের বড় অন্তরায় ছিল সংশ্লিষ্টদের এক না হতে পারা কিংবা নেতৃত্বের সংকট। যার ফ‌লে, সঙ্গীতাঙ্গনে যে‌নো থাম‌তেই চা‌চ্ছি‌লো না বিরহ আর বিদ্রোহের সুর। মামলা, জেল, জরিমানা, অভিযোগ আর একের পর এক উৎকণ্ঠা। কপিরাইট আর রয়্যালটি ইস্যুকে ঘিরে হাজারো প্রশ্ন, ত‌বে সমাধান কিংবা সমঝোতার পথ খুঁজে পাচ্ছিলো না কেউ।

এসব অতিক্রম করে এই করোনাকালে সংগীতাঙ্গনে বাজছে ঐক্যের সুর। সংগীত সংশ্লিষ্টরা মনে কর‌ছেন, এই ঐক্যের শুরুটা হলো গীতিকবি সংঘের সূত্র ধরে। একটি গান যেমন গী‌তিক‌বির হাত ধ‌রে সৃষ্টি হয়, তেমনি বাংলাদেশে সঙ্গীতাঙ্গনে ৫০ বছরের অস্থিরতার অবসানও ঘটতে যাচ্ছে এই সংঘটি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গীকে সমন্বয় কমিটির প্রধান করে ২৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

এরপর সঙ্গীতাঙ্গনের নানা জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গীতিকবি সংঘ বেশ কয়েকটি বৈঠকের আয়োজন করে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল কপিরাইট রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠক। এ বৈঠকের মাধ্যমে কপিরাইট খসড়া আইনে সংযুক্ত করার জন্য ১০টি প্রস্তাবনা পেশ করে গীতিকবি সংঘ।

গীতিকবি সংঘ সৃষ্টির পর থেকেই আগ্রহ তৈ‌রি হয় দেশের সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে সংঘবদ্ধ হওয়ার ল‌ক্ষ্যে। এরমধ্যে সুরকারদের নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন সংগঠন- মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটি, বাংলাদেশ। সভাপতি হিসেবে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নকীব খান।

সঙ্গীত নিয়ে গীতিকবি সংঘের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও যৌক্তিক প্রস্তাবনাকে সাধুবাদ জানায় সুরকারদের সংগঠনটি। তারই রেশ ধরে ২৮ আগস্ট দুটি সংগঠনের নেতারা বসেন যৌথ বৈঠকে। অন্তর্জালে আয়োজিত এই বৈঠকে গীতিকবি সংঘর উদ্যোগ ও প্রস্তাবনাগুলোকে সাধুবাদ জানান মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটির নেতারা।

বৈঠকের শুরুতে সদ্য প্রয়াত দুই কিংবদন্তি আজাদ রহমান, আলাউদ্দীন আলী ও এন্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প‌রে, দুটো সংগঠনই এক হয়ে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের উন্নয়ন এবং সুরস্রষ্টা ও গীতিকবিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে।

গীতিকবি জুলফিকার রাসেলের সঞ্চালনায় এই বৈঠকে অংশ নেন সংঘের প্রধান সমন্বয়ক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। এছাড়াও সমন্বয় কমিটির সদস্য‌দের ম‌ধ্যে উপ‌স্থিত ছি‌লেন, হাসান মতিউর রহমান, প্রীতম আহমেদ,জাহিদ আকবর, গোলাম মোর্শেদ, সালাউদ্দিন সজল, লিটন অধিকারী রিন্টু, আসিফ ইকবাল, কবির বকুল, সোমেশ্বর অলি ও জয় শাহরিয়ার।

অন্যদিকে মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটি, বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে অংশ নেন সভাপতি সভাপতি নকীব খান, মহাসচিব ফরিদ আহমেদ, সহ-সভাপতি ফোয়াদ নাসের বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী ইমন, প্রচার ও তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক বাপ্পা মজুমদার, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মানাম আহমেদ, আনিসুর রহমান তনু, রিপন খান, পার্থ মজুমদার ও এসআই টুটুল। বৈঠকে দুটি সংগঠনের নেতাদের মধ্যে সংগীত ও সাংগঠনিক বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়।

আ‌য়ো‌জিত এ বৈঠক প্রসঙ্গে গীতিকবি সংঘের প্রধান সমন্বয়ক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘এভাবে কখনও এতজন গীতিকবি আর সুরস্রষ্টা একসঙ্গে বসেছেন কিনা, এমন খবর আমার অন্তত জানা নেই। আমরা সংঘ তৈ‌রি ক‌রে‌ছি গী‌তিক‌বিদের নৈ‌তিক আর আর্থিক অধিকার রক্ষার জন্য। এখন আমরা যে যুদ্ধটা শুরু ক‌রে‌ছি সেটা বাস্তবায়ন হ‌লে আমা‌দের যে খুব বে‌শি লাভ হ‌বে তা নয়। কারণ, আমরা বেশিরভাগই মধ্যবয়স অতিক্রম করে গেছি। আমাদের এই উদ্যোগ আসলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’ সঙ্গীতের বিকাশ ও সুস্থতার জন্য আমাদের একা এগিয়ে গেলে চলবে না। তার জন্য সুর দরকার, কণ্ঠ দরকার। ফলে যারা সুর করেন, বাজান, তাদের সঙ্গেও কথা বলা দরকার। কণ্ঠশিল্পীদের কোনো প্ল্যাটফর্ম থাকলে তাদের সঙ্গেও আমরা বসতে চাইতাম। আশা করছি সেটিও শিগগিরই হয়ে যাবে।

গী‌তিক‌বি ও এম‌সিএস‌বি-এর মধ্যকার এইন বৈঠক‌টি আসলে ঐতিহাসিক ব‌লে জানান, মিউ‌জিক কম‌পোজার্স সোসাইটি, বাংলা‌দেশের সভাপতি নকীব খান। তি‌নি ব‌লেন, আমি আগে কখ‌নও গী‌তিক‌বি সুরকার‌দের ম‌ধ্যে এমন মিল দে‌খি‌নি। আমা‌দের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একই। সবাই দিনশে‌ষে সঙ্গী‌তের কল্যাণ চাই। যার জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আর বিভাজন নয়। আমরা চাই সবাই এক হ‌য়ে এগিয়ে যে‌তে।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...