অ্যালোভেরার যত গুণ

ফাতেমা ফারহানাঃ
ত্বক তরতাজা রাখতে অ্যালোভেরার বিকল্প নেই। গাছের পাতার শাঁসেই লুকিয়ে এমন গুণাগুণ, যা শরীররে ভিতর ও বাহিরে সুস্থ রাখে দুই-ই। কিন্তু তা ব্যবহার করার উপায়ও জানা জরুরি

নারীদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাঁরা ব্যবহার করেন নানা প্রাকৃতিক উপাদান। অনেক সময় নারীদের রূপরুটিনে থাকে অ্যালোভেরা নির্যাস শাঁস। কিন্তু অ্যালোভেরার গুণাগুণ কি? কি ভাবে বা ব্যবহার করবেন এটা তা জেনে নেই

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা হল এক ধরনের সাকিউলেন্ট। এর প্রতিটি পাতা মোটা, নরম কাঁটাযুক্ত। ভিতরে রয়েছে সাদাটে রঙের নরম তুলতুলে শাঁস। এই গাছ জন্মাতে পারে যত্রতত্র। বিশেষ যত্নআত্তিরও প্রয়োজন নেই।

বিজ্ঞান বলছে এতে রয়েছে প্রায় ৭৫টি গুণাগুণ। ভিটামিন উৎসের খনিজ , সুগার, অ্যামিনো অ্যাসিড, স্যাপোননি, ফ্যাটি অ্যাসিড, হরমোন। সব মিলিয়ে অ্যালোভেরাকে করে তুলেছে অসাধারণ। ফলে ত্বকের পরিচর্যা কিংবা ঘরোয়া টোটকায় স্বাস্থ্যরক্ষায় অ্যালোভেরা ভীষণ উপযোগী।

ত্বকের যত্ন
অ্যালোভেরা ত্বক পরিষ্কার করে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এই গাছ এমনিতেই রুক্ষ, শুষ্ক আবহাওয়াতেও তরতাজা থাকে। পাতায় সঞ্চিত থাকে পানি, গাছের খাদ্য। পাতায় থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ত্বক ময়শ্চারাইজ় করে।

আবার এই গাছ ত্বক এক্সফোলিয়েট করে ত্বক মেরামতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখায় বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। তবে ত্বকের যত্ন নিতে অ্যালোভেরা ব্যবহারের বেশ কিছু উপায় রয়েছে। সব ধরনের ত্বকে একই ভাবে এর ব্যবহার করা যায় না।

ব্যবহার
রূপচর্চার জন্য অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন সরাসরি। সে ক্ষেত্রে এমন গাছই নিন, যার পাতা মোটা, সুস্থ এবং শাঁসালো। ভাল একটি পাতা কেটে লম্বালম্বি চিরে নিন। ভিতরে পাওয়া যায় নরম, ঠাণ্ডা শাঁস। সেই শাঁস ছুরি বা চামচ দিয়ে চেঁছে ব্যবহার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

শুষ্ক ত্বক:
পাতা কেটে শাঁস বার করে নিন। তাতে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো, এক চা চামচ মধু, এক চা চামচ দুধ এবং কয়েক  ফোঁটা গোলাপজল মেশান। এ বার মিহি করে মিশিয়ে মুখে গলায়, ঘাড়ে লগিয়ে নিন। কুড়ি মিনিট পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

সংবেদনশীল ত্বক:
অ্যালোভেরা জেল, শসার রস, দুধ, রোজ় অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে  ব্যবহার করতে হবে সংবেদনশীল ত্বকে।

প্রাকৃতিক স্ক্রাব:
আধ কাপ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক কাপ চিনি দু’টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস মেশালেই তৈরি স্ক্রাব। এ বার আলতো হাতে মুখ-গলায় ঘষতে হবে এই স্ক্রাব। এতে মৃতকোষ যেমন দূর হবে তেমনিই অ্যালোভেরা সাহায্য করবে ত্বক পরিষ্কার করতে আবার পাতিলেবুর রস যে কোনও দাগছোপ ও ট্যান কমাতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক সানস্কিন:
সানর্বান, সানট্যান রুখতেও অ্যালোভেরা অতুলনিও। রোদে বেরোনোর আগে কৃত্রিম সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে না চাইলে অ্যালোভেরা জেল অল্প নিতে পারেন মুখে। তবে ফিরে এসে ফের মুখ পরিষ্কার করে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিতে পারেন উপকার পাবেন।

ঠোঁটের যত্নে:
ঠোঁট নরম রাখতেও অ্যালোভেরা অদ্বিতীয়। সামান্য অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে পারেন। কিনতে পারেন অ্যালোভেরা  সমৃদ্ধ লিপ বাম।

চুলের উজ্জলতায়ঃ
অ্যালোভেরায় থাকে প্রোটিয়োলাইটিক উৎসেচক, যা স্ক্যাল্পের মৃতকোষকে সারাতে সাহায্য করে। আবার চুলের কন্ডিশনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। চুলের গ্রোথ বাড়ায়, স্ক্যাল্পের চুলকানি কমায়। খুশকি কমাতেও সাহায্য করে অ্যালো। এর জন্য সমপরিমাণে অ্যালো জেল ও একস্ট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল মিশিয়ে সারা রাত চুল ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে চুল শ্যাম্পু করে নিলেই হবে। সপ্তাহে দু দিন  করা যেতে পারে এটি।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry