হস্তান্তরের আগেই অকেজো গুচ্ছ গ্রামের ৩০টি ঘর

শরিফ চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সরকারের ‘গুচ্ছ গ্রাম’প্রকল্পরে আওতায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৩০টি ঘর ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তররে আগইে ভেঙ্গে যাচ্ছে ৷ অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন নিম্নমানের সামগ্রী। এ সমস্ত অনয়িম ও দুর্নীতি নিয়ে সংশ্লষ্টি দপ্তরকে দায়ি করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এদিকে প্রকল্প শেষ হওয়ার ১ বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে পারেননি উপজলো প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনয়নের বিরাট গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য বিগত ২০১৮-১৯ র্অথবছরে ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে গুচ্ছ গ্রাম দ্বিতীয় পর্যায় (সিবিআরপি) প্রকল্প অনুমোদন হয়। জেলা প্রশাসকরে অনুকুলে ৪৫ লাখ টাকার বরাদ্ধ আসে ২০১৮ সালের ৩০ সপ্টেম্বর। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই টাকার চেক প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ৷ প্রকল্পের আওতায় ছিলো ৩০টি ঘর, ঘাটলা ও টিউবওয়েল নির্মাণ।

এদিকে চেক পাওয়ার পর এক বছেরর মধ্যেই সমাপ্ত হয় আজমিরিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ‘কুশিয়ারা গুচ্ছগ্রাম’প্রকল্পের কাজ। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়নি ভূমিহীনদের চুড়ান্ত তালিকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,অযত্নে ও অবহেলায় অধিকাংশ ঘরের সীমানা প্রাচীর ধ্বসে পড়েছে। ভিটা থেকে সড়ে গেছে মাটি। অকেজো হয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।

এ ব্যাপারে বিরাট গ্রামের ভূমিহীন মোছা. রহিমা বেগম নিউজনাউকে বলেন- ‘আমার স্বামী নেই, ঘর নেই। আমি অন্যের বাড়িতেই থাকি৷ অনেকবার চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে একটি ঘরের জন্য গিয়েছি৷ কিন্তু এখনও ঘর দেয়া হচ্ছে না।’স্থানীয় লোকজন মনে করছেন ঘরগুলো যদি আরো আগেই হস্তান্তর করা হতো তাহলে হয়তো এভাবে ভেঙ্গে পড়তো না। সুবধিাভোগিরা নিজেদের ঘরগুলো নিজেরাই মেরামত করে নিতেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন নিউজনাউকে জানান ‘বরাদ্ধ আসলে ‘কুশিয়ারা গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্প কর্মসূচি নেয়া হয়। যার সভাপতি ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছিলো। তবে তালিকাটা চূড়ান্ত না হওয়ার কারনে এখনও হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ঘরগুলো দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে কোন অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন প্রকল্প কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান খাঁন নিউজনাউকে বলেন- পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা তালিকাটি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করেছিলেন।
৪শটি আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৬০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেন। কিছুদিনের মধ্যেই পুরানো তালিকা থেকে ৩০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে৷

কাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে কিছুই অবগত নন তিনি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...