সুনামগঞ্জে ৩০ কোটি টাকার সোলার প্রকল্প অকেজো!

লিপসন আহমেদ , সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শাল্লার শাসখাই বাজারসহ ৪ টি গ্রামের প্রায় ৫০০ গ্রাহক সৌর সোলার সংযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সৌর সোলার কর্তৃপক্ষ প্রথম চুক্তি মোতাবেক তাদেরকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিলেও এখন দিনে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছেন। তাতেও আবার মাঝে মাঝেই একেবারেই বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। এই অবস্থায় গ্রাহকরা সৌর সোলার ছেড়ে পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুৎ নেবার আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেছেন, ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সমঝে নেবার আগেই অকার্যকর হয়ে গেছে। এই অবস্থায় রূগ্ন এই প্রকল্প সমঝে নেওয়া ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন এই কর্মকর্তা।

রবিবার সকালে সরজমিনে সুনামগঞ্জের শাল্লার শাসখাই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ২০১৬ ও ১৭ অর্থ বছরে শাসখাই বাজারসহ আশপাশের ৪ গ্রামে সৌর সোলার দেবার জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাজ করায় ইটকল নামের একটি উন্নয়ন সংগঠন। তারা এই প্রকল্পটিতে একটি বেসরকারী কোম্পানী রহিমা আফরোজকে দিয়ে কাজ করায়। প্রকল্প থেকে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেবার কথা ছিল ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত। কয়েকবছর সেভাবেই পান তারা। গত ২৭ মার্চ থেকে গ্রাহকরা ২ ঘণ্টা অর্থাৎ ৬ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধও রাখছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এই অবস্থায় প্রায় ৪০০ গ্রাহকের পক্ষ থেকে গত বুধবার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে জানানো হয়েছে ভুক্তভোগীরা আর এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন না। তাদের পাশেই পল্লী বিদ্যুতের লাইন রয়েছে তারা পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন।

স্থানীয় হবিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা বিপদে পড়েছি। ২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না। তাও আবার বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ নেই। আমাদের পাশে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ আছে, তারা দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে, এজন্য পল্লী বিদ্যুতে চলে যেতে চাই আমরা। আমরা জেনেছি এই প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের অনেক কিছুই এখন আর কাজ করছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ. হায়দার আলী নিউজনাউকে বললেন, সৌর সোলার প্রকল্প থেকে গ্রাহকরা প্রথম দিকে যেভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়েছিলে, এখন সেভাবে পাচ্ছেন না। আবার ৪৪৮ জন গ্রাহকের কাছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বকেয়াও রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের লাইন এসব গ্রাহকদের গ্রামের কাছে আছে এটিও সঠিক। এখন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে কি করতে হবে।

এই প্রকৌশলী আরও বললেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্প বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে সমঝে নেবার জন্য। আমার মতামত চাইলে আমি বলবো, এই প্রকল্প রূগ্ন, এরা এখনই বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। অনেক কিছুই তাদের ডেমেজ হয়ে আছে।

সৌর সোলার প্রকল্পের স্থানীয় টেকনেশিয়ান ইমন আলীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারছি না একথা সত্য। যা পারছি দিচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করতে হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকরাম হাসান চৌধুরী নিউজনাউকে জানালেন, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে শুনেছি শাল্লার সৌর সোলার প্রকল্পে। সোলারের গ্রাহকদের অনেক বকেয়া পড়েছে। আবার তারা দাবি করছেন চাহিদামত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই প্রকল্প আমাদের সমঝে নেবার কথা। সকল বিষয়েই দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, শাল্লার সৌর সোলার ব্যবহারকারীরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না দাবি করে বুধবার লিখিত দিয়েছেন। তারা পল্লী বিদ্যুতে চলে যেতে চান সেটিও স্মারকলিপিতে লিখেছেন। যেহেতু এই প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দেখভাল করে, আমি তাদের কাছে স্মারকলিপির কপি পাঠিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য লিখে দিয়েছি।

নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...