সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ তিন দিনের বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্ভোগ বেড়েছে প্রায় মানুষদের।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রবিবার(১২ জুলাই)সকাল থেকে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

মাত্র ১০দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ জেলায় আবার বন্যার কবলে পড়েছে।গত তিন দিনে আবারো অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা,যাদুকাটা, চেলানদী,চলতি নদীর পানিসহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

ফলে সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলার চারটি পৌরসভা ও ৮১টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

নদনদীর পানি বাড়ায় জেলা সদরের সঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, জামালগঞ্জ উপজেলার।

সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, সাববাড়িরঘাট এলাকার প্রধান সড়কে আবাদে নৌকা চলছে।

অন্যদিকে শহরের কাজীরপয়েন্ট, উকিলপাড়া,ষোলঘর, নবীনগর, ধোপাখালী, মল্লিকপুর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, ওয়েজখালী, কালীপুর হাছনবসত,শান্তিবাগ, মরাটিলা টিলাপাড়া, নুতনপাড়া,কালিবাড়ীসহ সবকটি আবাসিক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।

বন্যা কবলিত এলাকার ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের সংকট বেড়েই চলেছে।সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

পানি বন্ধী মানুষ বলছেন,বন্যার পানিতে ডুবে গেছে নলকূপ এখন ময়লা পানি খেয়ে কোনো রকমে জীবন রক্ষা করছি।বন্যায় ঘরবন্ধী হয়ে আছি।

তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ নিউজনাউকে জানান, আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রাখার জন্য নির্দেশনা প্রধান করেছি। এবং আমাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রাখা আছে।

বন্যার কারণে ২৫৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ১৩৪৪ টি পারিবারের ৫২৭৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেও মধ্যে ১৮৫০ জন পুরুষ,১৮২১ জন নারী ও ১৬০৫ জন বিভিন্ন বয়সের শিশু কিশোর রয়েছেন। জেলার ৮১ টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌর সভার ২০ ওয়ার্ডেও ৭০ হাজার ৩২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৩৩৭ মেট্রিকটন চাল, ২০ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সহ মেডিকেল টিম কাজ করছে।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...