সিরাজগঞ্জে পানিবন্দী তিন লক্ষাধিক মানুষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে ধীরগতিতে কমছে যমুনা নদীর পানি। ১২ ঘণ্টায় পানি কমেছে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানান সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম।

যমুনার পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এতে জেলার ছয়টি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৫ জন বানভাসি পানিবন্দী মানুষদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরম পর্যায় পৌঁছেছে।

নদীতীরবর্তী অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উঁচু স্থান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা ও উপজেলার সঙে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে নদীভাঙন। খাদ্য,শুকনো খাবার,জ্বালানি, শিশু খাদ্যে অবিশুদ্ধ পানির সংকটের সাথে সাথে টয়লেট পয়ঃনিস্কাশন সমস্যায় ভুগছে বন্যার্তরা। গো-খাদ্যর সংকটে দিশেহারা কৃষক ও খামারিরা।

সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম নিউজনাউকে বলেন, বন্যায় জেলার কাজীপুরে নয়টি ইউনিয়ন, সদরে আটটি, বেলকুচিতে পাঁচটি, উল্লাপাড়ায় দুটি, শাহজাদপুরে চারটি ও চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৭৮ হাজার ৪৫৭টি পরিবারের তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৫ জন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া ৬৩৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং পাঁচ হাজার ৮০৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪০০ টন (জিআর) চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৪২ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুদ আছে ২৫৮ টন চাল। শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...