শেবাচিমতে কোটি মানুষের জন্য একটি ল্যাব

শামীম আহমেদ,বরিশাল ব্যুরোঃ বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার কোটি মানুষের করোনাভাইরাস শনাক্তে একটি পিসিআর ল্যাব বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজের এ ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে ২ শ’র বেশি নমুনা পরীক্ষা সম্ভব না হওয়ায় রোগীকে ৮-১০ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলাফল পেতে সময় লাগছে আরো ৩-৫দিন।

ফলে দুর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক করোনার সন্দেহভাজন রোগী এ ল্যাবে এসে ভিড় করলেও পরীক্ষার সুযোগ না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন।

এমনকি দ্বীপ জেলা ভোলার সাগর বেষ্টিত মনপুরাসহ বরগুনার পাথরঘাটার সাগর পাড়ের মানুষও শেবাচিম’র পিসিআর ল্যাবটির উপর নির্ভরশীল।

অথচ দেশের প্রতিটি জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

ভোলাতে ১৫ দিন আগে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হলেও কারিগরি ত্রটির কারণে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজে আরো একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও সে ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি নেই।

পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পটুয়াখালীতেও অনুরূপ ল্যাব স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগন।

বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভোলা ও পটুয়াখালীতে অবিলম্বে ল্যাব চালু করলে দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশের রক্তের নমুনা পরীক্ষা সহজতর হবে। পাশাপাশি শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় ল্যাব চালু হলে বাড়তি কোনো জনবল ছাড়াই বর্তমানের দ্বিগুণ রক্তের নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হত।

বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র এ ল্যাবটিতে দৈনিক গড়ে ২শ থেকে সোয়া ২শ’র বেশী নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সহ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ সাধারণ মানুষ ল্যাবটিতে ভিড় করলেও তাদের ৮-১০ দিন পরের তারিখের একটি স্লিপ ধরিয়ে দিতে হচ্ছে।

তবে শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজে একমাত্র পিসিআর ল্যাবটিতে দৈনিক প্রায় ৩শ রক্তের নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হলেও জনবল সংকটে তা সম্ভব হচ্ছেনা।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, এখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সহ কমপক্ষে ৩০ জন কর্মী প্রয়োজন হলেও কর্মরত মাত্র ১০ জন।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১২০টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৫৯ জন। ফলে অন্য জেলা বা স্থাপনা থেকে প্রেষণে টেকনোলজিস্টদের এনেও কাজ চালান যাচ্ছেনা।
৭ এপ্রিল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাবটি চালু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে দক্ষিণাঞ্চলে আক্রান্তের হার প্রায় ১৪-১৫% এর কমবেশি বলে জানা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ রোগী সনাক্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৮শত ৯০ জন। মৃত্যুর সংখ্যাও ৯৭।

কিন্তু এখনো দক্ষিণাঞ্চলে করোনা ভাইরাস পরিক্ষায়ই ৮-১০ দিন অপেক্ষা করতে হওয়ায় বেশীরভাগ মানুষকেই রোগের লক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই সংক্রমণ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে তারা এ রোগকে আরো সংক্রমিত করছেন।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...