রংপুরের পশুর হাট কাঁপাচ্ছে ‘সুলতান’

জুয়েল আহমেদ, রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে কাঁপাচ্ছে সুলতান ও দুলাল নামের দু’টি কোরবানি উপযোগী  গরু। বিশাল দেহের অধিকারী এই গরুটি যদিও হাটে ওঠা সম্ভব হচ্ছেনা। এরপরেও খামারে যেয়ে অনেকেই দেখছেন নয়নভোরে।

কেউবা দাম হাঁকাচ্ছেন নিজের মতো করে। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও প্রাণী সম্পদের নেট দুনিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে ‘সুলতান ও দুলাল’। যদিও গরুর মালিক সখের বসে কোরবানির জন্য তৈরি করেছেন গরু দু’টিকে।

একটিকে উপহার হিসাবে দিতে চান দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। এর পরেও গরু দু’টির দাম উঠেছে ১৫ ও ২২ লাখ টাকা। প্রচলিত আছে ‘সখের তোলা’ হাজার টাকা কিন্তু এ এক অন্যরকম সখ প্রত্যাশা ডেইরী ফার্মের পরিচালক সহিদুল ইসলামের।

রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নে বাড়ির উঠোনে লম্বা একটি আধাপাকা ঘরে গত চার বছর ধরে লালনপালন করছেন ফ্রিজিয়ান জাতের সুলতান ও দুলালকে। সুপ্ত বাসনা নিয়ে পরম যত্নে সুলতানকে নিজ হাতে তৈরি করেছেন তিনি।

সদা হাস্যউজ্জল সহজ সরল গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিউজনাউকে জানালেন সুলতানকে নিয়ে তার ইচ্ছের কথা। একলাখ টাকায় কিনে ছোট্ট সুলতানকে গত চার বছর ধরে বুকে আগলে রেখে কোরবানির উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন তিনি।

উন্নতজাতের ঘাস, ভাত, ভূশিসহ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে সুলতানকে হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। গেল ঈদুল আযহায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার হিসাবে দেয়ার জন্য পায়ের স্যান্ডেল ক্ষয় করেছেন। ছুটেছেন জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় এমপির দরবারে।
কিন্তু তিল পরিমাণের সহযোগিতা পাননি তিনি। উপরন্তু মিথ্যা আশ্বাসে কেটেছে তার একটি বছর। এবছর আর চেষ্টাও করেননি তিনি।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে না হোক অন্তত তার কাছে সুলতানকে পৌঁছে দিতে পারলেই যেন তৃপ্ত তিনি। জীবনে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকবেনা তার। মরে যেয়েও শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সার্নিদ্ধ হয়তো কপালে জুটবেনা ভেবে প্রখর ইচ্ছে আর সুপ্ত বাসনাকে গলাটিপে হত্যা করে ‘প্রিয় সুলতানকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অপেক্ষার দিন শেষ না হলেও বিশালাকার ‘সুলতান ও দুলালকে পুষতে দৈনিক খরচ হচ্ছে তার এক হাজার টাকা।

আসছে কোরবানি ঈদে গরু দু’টিকে বিক্রি করতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পরবেন তিনি। সেই সাথে তাদের যত্ন নেয়া খুবই কষ্ট দায়ক। ইতোমধ্যে প্রতিদিন দল বেধে মানুষ যাচ্ছেন তার বাড়িতে। নেহাত শুধু সুলতানকে এক নজর দেখতে। কিন্তু এখনও কোনো ক্রেতা কেনার দাম বলেননি।

করোনা দুর্যোগের আগে দক্ষিণের এক ব্যবসায়ী সুলতানের দাম হাঁকিয়েছিলেন ২২ লাখ আর দুলালের জন্য ১৫ লাখ। আশ্বাস দিয়েছিলেন ঈদের এক মাস আগে তারা নগদ টাকায় নিয়ে যাবেন। এখন আর তাদের কোনো সাড়াশব্দ নেই। নেট দুনিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...