যমুনার ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

হারুন অর রশিদ খান হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সিরাজগঞ্জে গত চারদিন ধরে যমুনা নদীর পানি হু হু করে বেড়ে দ্বিতীয় দফায় আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ( বাপাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার সময় বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল ।

একই সময় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

যমুনা নদীতে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে দ্বিতীয়বার বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

দিনদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্রায় ২২ দিন যাবৎ সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত পাঁচ উপজেলা কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ,বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরের ১ লক্ষ ৬০ হাজার বানবাসি মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

করোনা দুর্যোগের মাঝে একটানা বন্যা ও বৃষ্টিতে বানবাসি পানিবন্দী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাঙনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে যমুনা নদী।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটিয়ারী, শিমলা, পাঁচঠাকুরী সহ নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতায় ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে নদীর পাড়ের মানুষ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম নিউজনাউ্কে জানান, সিরাজগঞ্জে ৮০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুষ্ক মৌসুমেই শেষ করা হয়েছে।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে দিকে সতর্কতা অবলম্বন করে মনিটরিং করা হচ্ছে। জরুরি কাজের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ, নৌকা,জনবল সহ সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম নিউজনাউকে জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১২৫ মেট্রিক চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সরকার মানবিক সহায়তার জন্য ২ লাখ ৪৪ হাজার নগদ অর্থ ও ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠিয়েছে। সেগুলো বন্যাদুর্গত পাঁচ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বিতরণ করা হচ্ছে।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...