মৌলভীবাজারে কোয়ারেন্টিন মানছেন না প্রবাসীরা

এম এ মোহিত,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে চলছে অঘোষিত লক ডাউন। প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকলেও এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও করোনা ভাইরাস সংক্রমিত কোন রোগী পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা জুড়ে পুলিশ র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাট ও গণ পরিবহণও। জনশূন্য হয়ে পড়েছে চিরচেনা শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলি। শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজারেও কোন কোলাহল নেই।

সুনসান নীরবতায় মানুষের কাটছে সময়। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বলছে, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস যাতে মানুষের মধ্যে না ছড়ায় সে জন্য বাড়তি জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন রকম প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে।

বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে কাঁপছে প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা। জেলার ৭টি উপজেলা কয়েক লাখ নারী-পুরুষ পরিবার পরিজন নিয়ে লন্ডন,আমেরিকা,কানাডা,ইতালি,স্পেন,ফ্রান্স,সুইডেন,অস্ট্রেলিয়া,জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকেন।

এসব প্রবাসীরা পরিবার নিয়ে বছর জুড়ে দেশে আসা যাওয়া করেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুলোর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়,চলতি পহেলা মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩হাজার ৫০০ এর বেশি প্রবাসী। এরমধ্যে প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে গেছে মাত্র ৬০৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৯৪জন বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডাঃ তওহিদ হোসেন।

চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের ছোবল শুরু হওয়ার পর তেমন কোন গুরুত্ব না দিয়ে প্রবাসীরা স্বাভাবিক ভাবেই দেশে আসা-যাওয়া করলেও বিশ্বব্যাপি এ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর মিছিল ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তড়িঘড়ি করে কয়েক হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন।

কিন্তু দেশে ফিরে আসা এসব প্রবাসীদের অধিকাংশই হোম কোয়ারেন্টিন লঙ্গন করে জনসম্মুখে ঘোরাফেরা করায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

জেলা ব্যাপী সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করতে পৌর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু করা হয় নানামুখী প্রচারণা।

জেলায় কোয়ারেন্টিন নির্দেশনায় থাকা ৬০৪ জনের মধ্যে হলেন, সদরে ৬৩ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেন ১৯জন, কুলাউড়ায় ১০৪ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ৪৪ জন, জুড়ীতে ৭৭জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন, বড়লেখায় ৬৮ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ২৮জন, শ্রীমঙ্গলে ১০৪ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৬জন, কমলগঞ্জে ৭৯ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ জন এবং রাজনগরে ৮৬ জনের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের দেশের ভেতরেসহ মৌলভীবাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন খবরে জেনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাস্কসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেয়। এ খবরের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে বলে জানালেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো: ফারুক আহমদ।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করতে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে যৌথ বাহিনী ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি লোকজনকে বাইরে ঘুরাঘুরি না করে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। শহরের অলিগলি এমনকি গ্রামেও ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রচারণায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে নেমেছে সেনাবাহিনীও। মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত সমন্বয়ক লে.কর্নেল হানিফ বললেন, ১৭ আর্টিলারি ডিভিশনের তিনটি ইউনিটে ১০০ এর বেশি সেনা সদস্য মৌলভীবাজার জেলায় কাজ শুরু করেছে।

এ দিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলার ৭টি উপজেলার দোকানপাট ও গণ পরিবহণ এবং লোকসমাগম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেলায় ৯৩টি চা বাগানে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত রাখার জন্য চা বাগানে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের দিনমজুর মানুষ অসহায় জীবনযাপন করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা শুরু করেছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন  ২৭ মার্চ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে  পাঠানো এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। চা-বাগানে সব বহিরাগতের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চা-বাগানের মদের পাট্রাগুলো (দেশি মদ তৈরির কারখানা) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...