মানিকগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগ

বিপ্লব চক্রবর্তী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জে পদ্মা ও যমুনার পানি হ্রাস পেলেও শাখা নদীর পানি অব্যাহত হারে বেড়েই চলছে, এতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। একদিকে বন্যার পানি অপরদিকে সারাদিনের বৃষ্টিতে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে হরিরামপুর, দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার একাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। বসত বাড়ি, হাট বাজার, হরিরামপুর উপজেলা কমপ্লেক্স, থানা চত্বর, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠে পড়েছে। এছাড়া হরিরামপুর-ঝিটকা-বানিয়াজুরী সড়কে বন্যার পানি উঠে পড়ায় সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক আহমেদ নিউজনাউকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৩টায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম রুহুল আমিন রিমন নিউজনাউকে বলেন, উপজেলার শিবালয়, তেওতা ও আরুয়া তিনটি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ তিনটি ইউনিয়নের তিনটি স্কুলে আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইরিন আক্তার বলেন, বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্যাদুর্গত ১ হাজার ৩০ জন মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বন্যাকবলিত উপজেলার ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে।

হরিরামপুরে বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে মঙ্গলবার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগম। এসময় জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিল্লাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলার চরাঞ্চলে গবাদিপশু নিয়ে বানভাসি মানুষজন নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করছেন। এখানে বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবারের পাশাপাশি গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষের মধ্যে অনেকেই নিজদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উচু স্থানে অথবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে।

অপরদিকে বন্যার ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৯ হাজার ১৯৬ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ৫,৯৯৫ মিটার জমি ভাঙনের বিলীন হয়েছে। তন্মধ্যে দৌলতপুরে যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ২৩৫০ মিটার, শিবালয়ে পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী এলাকায় ১৭৫০ মিটার, হরিরামপুরে পদ্মা নদী তীরবর্তী ৫৯৫ মিটার, সাটুরিয়ায় ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী ১১০০ মিটার ও ঘিওর উপজেলায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকা রয়েছে।

এ পর্যন্ত গৃহীত ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে ১৩০ মে:টন চাল, ১৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার শিশুখাদ্য এবং ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার গবাদি পশুর খাদ্য।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...