বেনাপোল বাজারে কমছে না লোকসমাগম

ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেনাপোল বাজার স্থানান্তর।

শেখ নাছির উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তার কমতি নেই বাংলাদেশসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বেনাপোল শহরেও। এই জনপদের শুধুমাত্র বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় চলতি মাসে প্রায় ১৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, পুলিশও রয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। আরো কয়েকজন জন মারা গেছেন সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে।

এরপরেও বেনাপোল বাজারে লোকসমাগম কমছে না। দিনদিন বেড়েই চলেছে লোকসমাগম। দোকানসহ ফুটপাতে নানা পণ্য নিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। এসব কথা ভেবে বেনাপোল পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোলের প্রধান সড়কে ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখার জন্য মাইকিং করা হয়।

বাজারের বিপুল সংখ্যক লোকসমাগম দেখে বেনাপোল বাজার কমিটি ও পৌর কর্তৃপক্ষ দুইদিন আগে ফুটপাতসহ সকল জনসমাগম ঘটানো দোকান বন্ধ করে দেয়। এরপর বাজার কমিটি ও পৌর কর্তৃপক্ষ চলে গেলে আবারও ওই দোকানিরা ফুটপাতে বসে পড়ে তাদের দোকান নিয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেনাপোল বাজার কমিটি আবারও মাঠে নামে। আর এ কমিটিসহ বেনাপোল পোর্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসন এর যৌথ প্রচেষ্টায় বাজার স্থানান্তর করা হয় বেনাপোল বল ফিল্ডে। যা রবিবার (২৮ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে বেনাপোল বাজারের প্রধান কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও ফুটপাত এলাকা বেনাপোল বাজার কমিটি মাইকিং করে সকল ব্যবসায়ীদের বেনাপোল বলফিল্ডে চলে যেতে বলে। এরপর ব্যবসায়ীদের তাদের দোকান গোছাতে দেখা যায়।

বেনাপোল পৌরসভা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও একটি বৃহৎ স্থলবন্দর। এ পথে প্রতিদিন ভারত থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রী ও আমদানি পণ্যের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করছে কয়েকশ‘ মানুষ। ব্যবসার কারণে দেশ বিদেশের অনেক লোকজন আসছে বেনাপোলে। তারপর চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসছে পরিবহন। যশোর-বেনাপোল সড়কে চলছে আন্তঃজেলা বাস, ঢাকা থেকে ও ঢাকাগামী ট্রেনও চলছে। এদের মাধ্যমে করোনা বিস্তার ঘটতে পারে বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন।

বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন নিউজনাউকে বলেন, ‘আমরা গত কয়েকদিন যাবত বাজারে লোকসমাগম যাতে না ঘটে সেই লক্ষে কাজ করছি। কিন্তু মানুষ সচেতন না। আমরা কার্যক্রম শুরু করে চলে গেলে আবার তারা একই কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য জরুরিভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর-এর সমন্বয়ে একটি বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বেনাপোল বাজারে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ইজিবাইক, ভ্যান, রিকশা, জেএস পরিবহন, নসিমন ও করিমন আগামী ২১ দিন বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় এসব যানবাহনে যাত্রী উঠানামা করছে। আমরা এজন্যে সতর্কতা অবলম্বন করে এসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া বেনাপোল বাজার থেকে ফুটপাতের দোকান সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পৌরসভার ছয়টি জায়গায় কাঁচাবাজার বসবে। মাছ, মাংস ও সবজি বিক্রি হবে। এতে লোকসমাগম কম ঘটবে।’

বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান নিউজনাউকে বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতিদিন বাজারে লোক সমাগম বন্ধের জন্য প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও মানুষ সচেতন না হওয়ার ফলে যা তাই হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য আজ বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাছ বাজার, কাঁচা বাজার ও মাংস বাজার বেনাপোল বলফিল্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান নিউজনাউকে বলেন, ‘আমরা বাজারে দীর্ঘদিন যাবত লোক সমাগম যাতে কম হয় সে চেষ্টা করেছি। কিন্তু মানুষের সচেতনতার অভাবে এটা কার্যকর হয়নি। সকালে মানুষ সেই আগের মত ভিড় জমিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাজার বেনাপোল বলফিল্ডে স্থানান্তরিত করা হলো। সড়কে ছোট যান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...