বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, পানিবন্দী মানুষ

সজীবুল হক সজীব, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারো বাড়ছে। ফলে জেলায় প্রায় ১৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমে দুপুর ১২টায় ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু ১২টার পর থেকে আবারো পানি বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টায় তা ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফের বন্যার আশঙ্কা করছেন নদী পাড়ের মানুষ। এদিকে ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। জেলায় প্রায় ১৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে বললেন জেলা প্রশাসক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। ভারতের গজালডোবা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় শুক্রবার দুপুর থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ও রাতে ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে-সাথেই হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শৌলমারী, কালিকাপুর, তুষভান্ডার ইউনিয়নের নোহালী, চর বৈরাতী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোরবর্ধন, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি, রাজপুর, গোকুন্ডা ও তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

পানিবৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৯৫টি বাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী নিউজনাউকে বলেন, ইউনিয়নের ৯৫টি বাড়িসহ ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন নিউজনাউকে বলেন, আদিতমারী উপজেলায় ৯৫টি বাড়ি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। ত্রাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, সকালের পানি কমে এলেও দুপুর থেকে আবারো পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর নিউজনাউকে জানান, জেলায় ১৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে আরো যেসব জায়গা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে সেসব এলাকার মানুষজনের তালিকা করার কাজ চলছে। ত্রাণ পর্যাপ্ত রয়েছে। তালিকায় যাদের নাম থাকবে তাদের ত্রাণ দেয়া হবে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...