বাড়বকুন্ডের লাল পেয়ারার কদর

রাজু কুমার দে,মিরসরাই প্রতিনিধি: বাজারে পেয়ারা কিনতে গেলে ক্রেতারা প্রথমে খোঁজে বাড়বকুন্ডের লাল পেয়ারা। স্থানীয়রা যাকে আঞ্জির পেয়ারা বলে চেনে। পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’পুষ্টিগুণে ভরা একটি ফল।

কিন্তু সীতাকুণ্ড উপজেলার বাবড়কুন্ডের লাল পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’। তাই বর্তমানে রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড কৃষি বিভাগ। তবে কি পরিমাণ পেয়ারা দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সীতাকুণ্ড কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০ কিলোমিটার এলাকার ৩শ একর পাহাড়ে পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে। সীতাকুণ্ডের ৯ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে লাল পেয়ারা চাষ হয় শুধু মাত্র বাড়বকুন্ড ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে ৩২০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে প্রায় সাড়ে ১২ টন লাল পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে।

যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হয় দেশের বাইরে। তবে কি পরিমাণ লাল পেয়ারা দেশের বাইরে রপ্তানি হয় তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসেব সীতাকুণ্ড কৃষি অধিদপ্তরে নেই। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পেয়ারা বেশি পাওয়া যায়। মূলত এই সময়টা পেয়ারার ফলন আসার সময়। তাই এই তিন মাস সীতাকুণ্ডের পেয়ারা চাষিদের মুখে থাকে সব সময় হাসি।

স্থানীয়রা জানান, পেয়ারার আঞ্চলিক নাম গয়াম। সীতাকুণ্ড এলাকার দুই ধরনের পেয়ারার চাষ হলেও বাড়বকুন্ডের লাল পেয়ারা চাষে কৃষকদের উৎসাহ বেশি। স্থানীয় চাষীদের ভাষায় এই পেয়ারার নাম আঞ্জির পেয়ারা। এই পেয়ারার বৈশিষ্ট্য হলো বাইরে হলুদ অথবা সবুজ আর ভেতরটা লালচে গোলাপি। আকারে খুব একটা বড় না হলেও স্বাদে অতুলনীয়। যে কোনো পেয়ারাতেই ভিটামিন ‘সি’ থাকলেও লাল পেয়ারায় ‘সি’ এর সাথে অতিরিক্ত আছে ভিটামিন ‘এ’।

জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার পেয়ারা চাষিরা খুব ভোরে বাগান থেকে পেয়ারা তুলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বাড়বকুন্ড, মোহন্তের হাট, শুকলাল হাট, কুমিরা বাজার ও দারোগারহাট বাজারে নিয়ে আসে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কমমূল্যে পেয়ারা কিনে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি লাল পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হয় ৩৫-৫০ টাকায়। খুচরায় বিক্রি হয় ৪৫-৬০ টাকা।

উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়ন মধ্যম মাহমুদাবাদ গ্রামের লাল পেয়ারা চাষী মো.নজরুল আফছার জানান, তিন বছর আগে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৪০ শতক জায়গায় লাল পেয়ারা চাষ করেছেন। বর্তমানে ফলন দেয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বাগানে আরো অনেক পেয়ারা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রঘুনাথ নাহা জানান, বাড়বকুন্ডে ৩২ হেক্টর জমিতে সাড়ে ১২ টন লাল পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে। লাল পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত লাল পেয়ারা দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে। তবে কি পরিমাণ পেয়ারা দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে তা তিনি জানাতে পারেন নি।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...