বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার চুরি, তদন্ত কমিটি নিয়ে নাটক

শেখ জাবেরুল ইসলাম,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নাটকের পর নাটক চলছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট)বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিসকক্ষে আলোচনা শেষে দ্বিতীয় দফায় তদন্ত-কমিটি গঠিত হয়েছে। এছাড়া তদন্তের সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তের জন্য ৭-সদস্যবিশিষ্ট প্রথম যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সে কমিটির রিপোর্ট দাখিলের সময়সীমা ছিল ৭ কর্মদিবস, যা শেষ হয় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)।

কিন্তু রিপোর্ট প্রদানের দুদিন আগে সে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় সহকারী রেজিস্টার মোঃ নজরুল ইসলাম হীরাকে এবং শেষদিনে দুপুরে তদন্তের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এস এম এস্কেন্দার আলী।

এরপর বিকেলে তদন্ত কমিটির সভাপতি আইন অনুষদের ডীন মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া তদন্ত কাজ শেষ করতে আরও ১০ দিন সময় চান। কিন্তু সন্ধ্যার পর অজ্ঞাত কারণে আরও ৪ সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার পর্যন্ত গণ-মাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজী হননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউই। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বা তদন্ত কমিটির প্রধানও তাদের নিজ নিজ মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। স্বাভাবিক কারণেই জনমনে জাগে নানা প্রশ্ন, সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশার।

অবশেষে রবিবার (২৩ আগস্ট) ভিসির অফিস-কক্ষে দীর্ঘ আলোচনা শেষে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর ড. মোঃ নূরউদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, তদন্তের ৫ম দিনে ৭-সদস্যবিশিষ্ট প্রথম কমিটির একজনকে অব্যাহতি দেয়ার পর শেষদিনে আরো ৫ জন তদন্ত থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এরমধ্যে দুজনের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৪ জনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপদেষ্টা ও উপ-পরিচালককে (পউও) যোগ করে দ্বিতীয় দফায় ৬ জনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সে সঙ্গে তদন্তের সময়সীমা আরো ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম কমিটির সভাপতিই দ্বিতীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে, গোপালগঞ্জ থানায় দায়ের করা এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বশেমুরবিপ্রবির ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের দুদিনের মধ্যে ঢাকার মহাখালী এলাকার ক্রিস্টালিন ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে তাদের ৫ জনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তারা জবানবন্দিতে এ চুরির মূল হোতাদের নাম প্রকাশ করেছে। বর্তমানে তারা গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। গ্রেপ্তারকৃত বাকী দুজনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ চুরির সঙ্গে জড়িত বাকীদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, চুরির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশী অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত-কমিটিতে কেন এসব জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা আমাদেরও বোধগম্য নয়।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...