বরিশাল শেবাচিমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

শামীম আহমেদ,বরিশাল ব্যুরোঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) ইনসেটর মেশিন অকেজো হয়ে থাকার কারণে করোনা বজ্র যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়াই বরিশালে লাখো মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

দেশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। তবে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের নানান অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ফেলে রাখায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

এখানে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে কিছুই নেই। ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মানে মাটি খুড়ে ফেলে রাখা হয় বলে বলা হলেও বাস্তবে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্র। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের ব্যবহৃত মাস্ক গ্লাভস আর পিঁপিঁই উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেয়ার কারণে বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা।

হাসপাতালে মান্ধাতার আমলের ইনোসেন্টর নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবহার না করতে করতে বিকল সেটিও। এমন অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে চলছে শেবাচিম হাসপাতাল।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাগজে কলমে ১ হাজার বেড থাকলেও বাস্তবে ইনডোর-আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ চিকিৎসা পায় এই সরকারি হাসপাতালে।

এরসাথে শেবাচিমে যোগ হয়েছে নতুন ১৫০টি করোনা বেড। বিপুল সংখ্যক এই মানুষের চিকিৎসা প্রশ্নে প্রতিদিন উৎপন্ন হয় কয়েক টন বর্জ্য।কিন্তু এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন সঠিক পদ্ধতি নেই।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য তাৎক্ষনিকভাবে পুড়িয়ে ফেলি আমরা। এছাড়া হাসপাতালের পেছনে গর্ত করে ফেলা হয় অন্যান্য ক্লিনিক্যাল বর্জ্য।’

পরিচালকের দাবী অনুযায়ী, প্রতিদিন বর্জ্য ফেলার পর সেখানে ব্লিচিং পাউডার এবং সোডা দেয়া হয়।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে গর্তে বর্জ্য দেখা গেলেও ব্লিচিং পাউডার কিংবা সোডা দেয়ার কোন প্রমাণ চোখে পড়েনি। সেখানে চোখে পড়ে উন্মুক্তভাবে মাস্ক গ্লাভস আর পিঁপিঁই পড়ে থাকার দৃশ্য।

করোনা ইউনিট লাগোয়া ভবনটির দক্ষিণপাশে মূল সড়কের পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে এসব সুরক্ষা সামগ্রী। যার মধ্যে পথশিশুরা ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সেখান থেকে সংগ্রহ করে ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করছে।

বরিশালের পরিবেশ ফেলো মুরাদ আহম্মেদ বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে তুলে এনে ফেলা রাখা নয়। নিয়মানুযায়ী সব পুড়িয়ে ফেলতে হয়। প্রথমে বর্জ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করতে হবে। সংক্রামক বা অতি বিপদজনক, সাধারণ বিপদজনক এবং সাধারণ।

এরপর ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেগুলোক নিয়ম ও সময় মেনে পুড়িয়ে ফেলবে ইনসেনেটর। কিন্তু এই ইনসেনেটর একটিও নেই বরিশালে। পুড়ে না ফেলে কেবল ফেলে দেয়ার কারণে নগরীর কাউনিয়ায় ডাম্পিং জোন’র আশেপাশের বাসিন্দারা এখন বসবাস করছে মৃত্যুর সাথে।

অথচ নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা গেলে এসব সমস্যা হতনা।’ শেবাচিমের দুই চিকিৎসক অভিযোগ করে বলেন, ‘গত আড়াই মাসের-ও বেশী সময় ধরে হাসপাতালের বর্জ্য নিচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। ফলে গর্ত করে ফেলতে হচ্ছে বর্জ্য।’

এব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্ঞ্জাভেন্সী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকবে। মেডিকেল বর্জ্যরে মতো ঝুঁকিপূর্ণ আবর্জনা নেয়ার কোন বিধান আমাদের নেই। তাছাড়া আমরা ওই বর্জ্য নিয়ে ফেলবো কোথায় ? যেখানেই ফেলবো সেখানেই তো ঝুঁকির মুখে পড়বে মানুষ।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...