বন্যায় শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নড়িয়া-জাজিরা আঞ্চলিক সড়কে পানি, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নেমে আসায় শরীয়তপুরের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে নড়িয়া-জাজিরা আঞ্চলিক সড়কের ঈশ্বরকাঠি স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঢাকার ও জাজিরা সঙ্গে নড়িয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মোক্তারেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌকিদার।

জেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, বন্যা কবলিতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা শেষে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে ও জাজিরা ইউনিয়নের সদস্য আকতার মাদবর নিউজনাউকে জানান, উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নেমে আসায় শরীয়তপুর জেলার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে নড়িয়া-জাজিরা আঞ্চলিক সড়কের ঈশ্বরকাঠি স্থানে প্রায় ৩০০মিটার রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঢাকার ও জাজিরা সঙ্গে নড়িয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ঐ রাস্তায় গনপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা-জাজিরার সঙ্গে নড়িয়া উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনেক বাড়ি ঘরে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। পদ্মানদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পেয়ে সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নড়িয়া উপজেলার গাগড়ি জোড়া, পৌর এলাকার ঢালিপাড়া, কলুকাঠি, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর সারেংকান্দি ,পাচুখার কান্দি, কাজিয়ারচর, পালেরচর, বড়কান্দি, পূর্বনাওডোবা, জাজিরা ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে। বিশেষ করে পৌর এলাকার ফকির মাহমুদ আকন কান্দি ও জাজিরা ইউনিয়নের পাতালিয়া কান্দি, দুব্বাডাঙ্গা, ভানু মুন্সি কান্দি, হাওলাদার কান্দি, লখাই কাজি কান্দি, জব্বার আলী আকন কান্দি, জব্বার মোল্যা কান্দি ও গফুর মোল্যা কান্দি  ঐ এলাকায় প্রায় ২ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা নওয়াপাড়া নশাসন, জপসা ,ভোজেশ্বর সদর উপজেলার পালং, তুলাসার, আংগারিয়া, বিনোদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। নিচু এলাকার কাচা রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ঐসব এলাকায় গবাদি পশু খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। হাস মুরগী পশু পাখি নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছে। এলাকায় পাট, রোপা আমন বোনা আমন, শাক সবজি ও আখ খেত তলিয়ে গেছে। ফলে ঐসব এলাকার শত শত একর জমির ফসল বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কুরবানির জন্য পালিত গবাদি পশু নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকেরা মারাত্মক বিপদে পড়েছেন। বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পেলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় কোন ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জয়নাল মাদবর বলেন, বন্যার পানিতে আমাদের বাড়ি ঘর তলিয়ে গিয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানীয় জলে ও সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার তিনটি উপজেলায়ই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাজিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম নিউজনাউকে বলেন, ‘বন্যার পানিতে জাজিরার ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গবাদি পশু হাস মুরগী নিয়ে কষ্টে আছে মানুষ। বিশুদ্ধ খাবার পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। আমরা তালিকা করতে শুরু করেছি।‘

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তি রুপা রায় নিউজনাউকে বলেন, বন্যার পানিতে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মোক্তারচর ও পৌর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যা কবলিতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা আছে। এখনো কোন লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা শুরু হয়েছে। তালিকা করা হলে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...