ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কুঠির খাল নিয়ে উত্তেজনা

সুমন ইসলাম, ফরিদপুর ব্যুরোঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী চতুল ইউনিয়নের কুঠিরখাল নিয়ে মুখোমুখি  পোয়াইল গ্রামের দুটি পক্ষ। যে কোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা।

বোয়ালমারীর বৃহৎ বিল দাঁদুড়িয়া থেকে চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামের ভেতর দিয়ে কুঠির খাল নামে একটি খাল নেমে গেছে কুমার নদে। খাস খতিয়ান ভুক্ত খালটি লিজ দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় চতুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু তার আস্থাভাজন লোকদের বাৎসরিক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে লিজ দিয়ে আসছে চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই। ফলে স্থানীয়রা বঞ্চিত হয় মাছ শিকার থেকে শুরু করে খালটির নানা সুবিধা থেকে।

জানা যায়, খালটি ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত সরকারী খাস সম্পত্তি হওয়ায় লিজ দেওয়ার বৈধতা নেই ইউনিয়ন পরিষদের। পোয়াইল ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি হাসমত সেখ জানান- চতুল ইউপি চেয়ারম্যান কুঠিরখাল অবৈধভাবে লিজ দিয়ে আমাদের খালপাড়ের শতশত পরিবারকে মাছ মেরে খাওয়া থেকে বঞ্চিত করে আসছে। আমরা চাই সরকারি খাল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

চতুল ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, পুর্বপুরষ থেকে এ খালে দিয়ে আমরা ফসলাদি আনা, পাটজাগ দেওয়া সহ বর্ষা মৌসুমে মাছ আহরণ করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে বর্তমান কয়েক বছর খালটি লিজ দিচ্ছে চেয়ারম্যান লিটু শরীফ যার কারণে লিজ গ্রহিতাগন খালে মাছ মারা দূরে থাক পানিতেই কাউকে নামতে দেয় না।আমরা চাই এর একটি সুষ্ঠু সমাধান করবে প্রশাসন। খালটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে একই ধরনের দাবি জানিয়েছে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কিবরিয়া ফকির, কামাল সেখ,ওয়াদুদ শেখ ও এলাকাবাসী।

এ ব্যপারে চতুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, আমার পূর্বের চেয়ারম্যানগণ খালটি লিজ দিয়ে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করত আমিও সেই পথ অনুসরণ করে লিজের টাকার সাথে নিজস্ব অর্থযোগে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজ করেছি। সরকার যদি মনে করে এ কাজটি বৈধ না তাহলে সরকারি বিধান মাফিক কাজ করা হবে।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
Loading...