প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পঞ্চগড়

কামরুজ্জামান টুটুল,পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এ উপজেলার তিন দিকে ভারত শুধু মাত্র দক্ষিণ দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা। পুণ্ড্র, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসনামলের হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জনপদের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিপুল সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। তাই হিমালয় কন্যাকে পরিকল্পিত পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।

সমতল ভূমিতে চা বাগান দেখার আকর্ষণে প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছে তেঁতুলিয়ায়। তেঁতুলিয়া ছুঁয়ে গেছে সীমান্ত নদী মহানন্দা । মহানন্দার বুক থেকে নুড়ি পাথর তোলার দৃশ্য শ্রম ও সৌন্দর্যকে একাকার করে ফেলে । এই নদীর হাটু জলে নেমে সন্ধে উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য বিপুল আনন্দের ব্যাপার। অন্যদিকে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব হাতের কাছেই। শরতের শেষের দিক হতে শীত পর্যন্ত তেতুলিয়া ডাক বাংলোতে দাঁড়িয়ে উত্তরের মেঘমুক্ত আকাশে তাকালেই চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহময় মায়াবী দৃশ্য। এই দৃশ্য উপভোগের জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমায় তেঁতুলিয়ায়। দেশের একমাত্র এই এলাকাতেই কালাতিতির নামের একটি পাখির দেখা মেলে । এছাড়া হিমালয়ে প্রচণ্ড শীত পড়ার কারণে এবং নানা দেশের অনেক প্রজাতির অতিথি পাখি এই এলাকায় বিচরণ করে। তাই পাখি প্রেমীরাও শীত কালে ছুটে আসে তেঁতুলিয়ায়।

তেঁতুলিয়ায় রয়েছে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট। বলা হয়ে থাকে এখান থেকেই বাংলাদেশের শুরু। বছরের অধিকাংশ সময়েই তাই পর্যটক ভীর করে এখানে বিশেষ করে শীতের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখার জন্য ভ্রমণ পিপাষু ভীর জমায় তেঁতুলিয়ায়। বাংলাবান্ধাতেই অবস্থিত ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এই বন্দর দিয়ে ভারত,নেপাল,ভূমির টানের সাথে বাণিজ্য শুরু হয়েছে । চীনের সাথে আলোচনা চলছে । সম্প্রতি ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট স্থাপিত হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। এই চেক পোষ্ট দিয়েই খুব সহজে এবং কম খরচে ভারত,নেপাল ও ভুটানে চিকিৎসা এবং ভ্রমণে যাচ্ছেন অনেকেই।

বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৪ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার।
তেঁতুলিয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা । কিন্তু পর্যটকদের জন্য এখনো গড়ে ওঠেনি কোন আবাসন। ফলে রাত্রী যাপনের জন্য পর্যকটকদের থাকতে হয় তেঁতুলিয়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দুরে জেলা শহরের কোনো হোটেলে । পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধার কোন মোটেল গড়ে ওঠেনি। সরকারও অজ্ঞাত কারণে উদ্যোগী হয়নি। তাই স্থানীয়রা এবং আগত পর্যটকদের দাবি অচিরেই তেঁতুলিয়াকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা হোক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন সরকারি ভাবে পর্যটন এলাকা ঘোষণা এবং সুযোগ সুবিধা দেয়া হলে স্থানীয় ভাবে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি সরকারও পাবে রাজস্ব । তেঁতুলিয়ার সিনিয়ির সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম জানান, মহানন্দার পাড়ে আমার বাড়ী । প্রতি বছর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখার জন্য অনেক পর্যটক আসে। তেঁতুলিয়ার সমতল ভূমির যে সৌন্দর্য তা এক পলক দেখার জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে । কিন্তু এখানে এসে সুযোগ সুবিধার অভাবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যায় । তেঁতুলিয়াকে অচিরেই পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা উচিৎ।

আমদানি রপ্তানীকারক মখলেছুর রহমান জানান, বাংলাবান্ধা একটি সম্ভাবনার স্থল বন্দর। এই পোর্ট দিয়ে ৪ দেশের বাণিজ্য এবং লোক যাতায়াত চলছে । সিকিমের গ্যাংটকের দূরত্ব অনেক কম। অনেক পর্যটক এখন এই বন্দর দিয়ে দার্জিলিং,নেপাল,ভুটান সিকিম সহ ভারতের নানা শহরে । অনেক পর্যটক বাংলাবান্ধা পোর্ট ব্যবহার করবে। সরকার রাজস্ব পাবার পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে বেকারত্বের হার কমবে।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...