প্রণোদনা ঘোষণার পরেও অনাবাদি থেকে গেছে জমি

নুর নবী রবিন: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়া মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড ১৯) প্রভাবে থমকে গেছে পুরো পৃথিবীর স্বাভাবিকতা। বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম। কল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কাজ কমে গেছে কৃষকের ক্ষেতেও। এতে দাম বাড়ছে কাঁচা বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের। এখন বর্ষাকাল। কৃষকের জন্য আমন মৌসুম। অন্যান্য বছরগুলোতে এ সময়ে ধান রোপণের ব্যস্ততা থাকলেও এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে নাঙল পড়েনি অধিকাংশ জমিতে। কমে গেছে চাষের হার।

উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য অন্যান্য খাতের পাশাপাশি কৃষিখাতেও প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। তবুও কমে যাচ্ছে কৃষি কাজ। চাষাবাদের খরচ জোগাতে পারছে না কৃষক। কৃষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকারের তরফ হতে প্রণোদনার ঘোষণা শুনেছে টিভিতে। কিন্তু কীভাবে সেই প্রণোদনার অর্থ হাতে পাবে – সে বিষয়ে কিছুই জানে না তারা।

দেশে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত মানুষগুলো বেশির ভাগই নিরীহ সহজ সরল। অধিকাংশ কৃষকই অক্ষরজ্ঞানহীন। ফলে কীভাবে সরকারি ঋণ নিতে হয় তা তারা জানেন না। চাষাবাদের খরচ জোগাতে প্রতিবছর স্থানীয় মহাজন অথবা ধান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ নেয়। এতে পাকা ধান ঘরের তোলার আগেই কম দামে বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে হয়।

এই যেমন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচরে বর্গাচাষি আবু তাহের। তিনি প্রতিবছর স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে চাষাবাদের ব্যয়ভার বহন করেন। আগে যার কাছ থেকে টাকা নিতো, করোনা ভাইরাসের কারণে সেই ব্যবসায়ী এবার টাকা দিতে পারছে না। আবার আরেক কৃষক মোহাম্মাদ রবিউল আলম প্রতিবছর আমন মৌসুমে প্রায় ৫ একর জমিতে চাষ করেন। কিন্তু এবছর চাষের খরচ জোগাতে না পারার শঙ্কায় কোনো জমিতে হাল দেয়নি।

নিউজনাউকে তারা বলেন, অন্যান্য বছরগুলোতে এ সময় কিছু টাকা থাকতো। যেগুলো দিয়ে বীজ, সার এবং চাষের খরচ জোগাতে পারতাম। কিন্তু এ বছর অনেকদিন ধরে কোনো কাজ না থাকায় মোটামুটি পকেট শূন্য। চাষের খরচ মেটাতে হলে চড়া সুদে ঋণ করতে হবে। সিজনে ধানের যে দাম হয়, সবগুলো বেচেও তা পরিশোধ করাও সম্ভব না।

তবুও অনেকে ঋণ করেই চাষ করছেন। এদের কেউ কেউ চাষের আগেই আগাম ধান বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করছে। কিন্তু তারা মনে করেন, সরকারি সহায়তা পেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি সুদে টাকা নিয়ে চাষ করা লাগতো না।

প্রান্তিক পর্যায়ের মাঠের কৃষকেরা কৃষিঋণ পায় না কেন – এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সমাজতান্ত্রিক কৃষক ও ক্ষেত মজুর ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ নিউজনাউকে বলেন, সরকার কৃষকের জন্য যে কৃষিঋণের ঘোষণা দিয়েছে – এতে প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র কৃষকেরা কোনো সুবিধা পায় না। এটা মূলত ধনী এবং মধ্যসত্ত্বভোগীদের জন্য। কৃষিঋণের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, অথচ গার্মেন্টসে ঋণের সুদের হার মাত্র ২ শতাংশ। আবার যারা লিজ নিয়ে কিংবা বর্গাচাষি তারা কোনো ঋণ পাবে না। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই বর্গাচাষি। সুতরাং যারা এসব প্রণোদনার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন, মূলত তারাই তাদের মতো করে পায়দাটা লুটে নেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...