পানি কমলেও সিরাজগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমলেও এখনও প্রবলবেগে বইয়ে চলেছে বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে,ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬ টায় কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের হার্ডপয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে ঈদের আনন্দ নেই সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিত ৬টি উপজেলার বানভাসি সাড়ে তিন লাখ অসহায় মানুষদের মাঝে।

গত তিনদিন ধরে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকলেও একটানা একমাসের অধিক সময় যাবৎ চলমান বন্যায় এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে জেলার ৬ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চলের প্রায় আড়াই’শ গ্রামের ঘর বাড়ি বসতভিটা, জমিজমা ।

বানভাসি মানুষেরা শিশু,বৃদ্ধ, গবাদি পশু,হাস-মুরগী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধ ও উঁচু জায়গায়। অনেকেই রয়ে গেছে নিমজ্জিত বাড়ির ঘরের মধ্যেই চাঙ ও মাচল করে,কেউবা পরিবার নিয়ে নৌকাতেই বাসছেন। পাঁচঠাকুরী ও শিমলা সহ বহু স্থানে নদী ভাঙনে হারিয়েছেন শেষ সম্বল বাব দাদার ভিটেমাটি

চার দিন পরই কোরবানির ঈদ। সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। পানিবন্দী থাকায় দিন কাটছে অনাহারে। কোন রকম খেয়েই জীবন যাপন করছে। ভিজিএফ, ভিজিডি ও বয়স্ক ভাতার অনুদানই এদের শেষ সম্বল। তাও আবার কখনো পান আবার কখনো পান না। ভয়াবহ বন্যা তাদের সঙ্কট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্যা, নদী ভাঙন ওদের কোমর বাঁকা করে দেয় প্রতিবছর। এবার বন্যার মধ্যে কোরবানির ঈদ হওয়ায় এখন পর্যন্ত তাদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না ঈদের আমেজ।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ৩৩টি ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রামের এক লাখ ৫৯ হাজার ১৫৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষ। চরে বসবাসকারী প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের সবাই বেঁচে আছে সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিভিন্ন এনজিও’র দেওয়া ত্রাণের উপর ভর করে।

সরেজমিনে গিয়ে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সঙে আলাপচারিতায় বেরিয়ে আস্তাদের জীবন-যুদ্ধের করুণ কাহিনী। ‘বেঁচে থাকার তাগিয়ে যে যা পারছে তাই করে কোনোরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার কেউ কেউ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

বন্যা কবলিতরা নিউজনাউকে বলেন, ঈদের আনন্দ করবো কি দিয়ে। দু’বেলা দুমুঠো পেটের ভাতই জোগাড় করতে পারি না। সেখানে ঈদের আনন্দ করার চিন্তা আনবো কি করে। ঈদকে সামনে রেখে মানুষ যখন আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত তখন আমরা ঘরবাড়ি রক্ষা করা নিয়ে ব্যস্ত। সামনের দিনগুলা কেমনে চলমো সেই চিন্তায় রাতে ঘুমেই আসে না। কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা ঈদের দিন পরিবারকে একটু সেমাই খাওয়াতে পারব কিনা জানি না।

শাহজাদপুরের কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, চরের অভাবী মানুষগুলোর কাছে ঈদ যেন শুধুই স্বপ্ন। কারণ সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি সহায়-সম্বল সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। কৈজুরি ইউনিয়নে বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। মৌসুমি খেতেও ভালো ফসল হয়ে থাকে। এলাকার মানুষ সচ্ছল হয়েউঠেছিল। কিন্তু এ বছর বন্যার পানি উঠায় মানুষের ঘরে রাখা ধান-চালও নষ্ট হয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল হক নিউজনাউকে জানান, সিরাজগঞ্জে চরবাসীর বসবাসকারী মানুষের একমাত্র সম্বল চাষাবাদ। বন্যার কারণে চরের অভাবী মানুষগুলোর চাষাবাদ করতে পারছে না। বন্যার কারণে এবার চরঞ্চলবাসীর মনে নেই ঈদের আনন্দ। সিরাজগঞ্জ জেলার এবার বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলার ১৪ হাজার ১৭ হেক্টর জমির পাট, তিল ও আখ পানিতে ডুবে ক্ষতি হয়েছে।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...